কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেছে বেছে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিগুলি থেকে কয়েক লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ভবানীপুরে ৪০ হাজারের নাম বাদ গিয়েছে। মঙ্গলবার দিল্লির সাংবাদিক বৈঠক থেকে নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় Mamata Banerjee)। 

এদিন নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের (Bhabanipur) প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, “আমার কেন্দ্রে প্রায় ২ লক্ষ ভোটার। সেখানে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির (Logical Discrepancy) দোহাই দিয়ে ৪০ হাজার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। গোটা রাজ্যে প্রায় ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। অথচ তাঁদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগ দেওয়া হয়নি।” তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ, তৃণমূলের জেতা আসন সেখানে ১ লক্ষ পর্যন্ত নাম বাদ গিয়েছে, অথচ বিজেপির কেন্দ্রগুলিতে সেই সংখ্যাটা নগণ্য। মমতার কথায়, “যত TMC কেন্দ্র আছে সবেতে কোথাও ৭০ হাজার, কোথাও ১ লক্ষ ভোটারকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিজেপির ২ হাজার, ৩ হাজার, ১১ হাজার।” 

এদিন ন্যাশনাল ইনফরমেটিক্স সেন্টার (NIC)-এর উপ-মহাপরিচালক সীমা খান্নাকে নিশানা করে ক্ষোভ উগরে দেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, “বিজেপি সীমা খান্নাকে বসিয়েছে। তিনি এআই ব্যবহার করে নাম বাদ দিচ্ছেন। ইআরও-দের (ERO) সই ছাড়াই এই বেআইনি কাজ চলছে।” মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “গণতন্ত্রে কে সরকার নির্বাচন করে- কমিশন নাকি সাধারণ মানুষ?” মমতার কথায়, “এআই (AI) ব্যবহার করে সত্যি যাচাই না করে নাম ডিলিট করে দেন। ইআরও-র সই ছাড়া এটা করা যায় না। ৫৮ লক্ষ মানুষের নাম ডিলিট করে দিয়েছে। ৫৮ লক্ষের নাম বাংলায় বাদ দিয়েছে। আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগ দেয়নি। বিজেপি সীমা খান্নাকে বসিয়েছে। এআই ব্যবহার করে নাম বাদ দিচ্ছে। ইআরও-র সই নেয়নি। এটা বেআইনি।”
আরও খবর: জোরালো প্রমাণ আছে: পিছনের দরজা দিয়ে বাংলার ভোটারদের নাম বাদের তথ্য পেশ অভিষেকের

মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বেছে বেছে সংখ্যালঘু এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, “৩৩ শতাংশ মুসলিমকে কি রাজ্য থেকে বের করে দেওয়া হবে? আমরা কোথায় যাব?” হিয়ারিংয়ের নামে সাধারণ মানুষকে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় ছোটানো হচ্ছে এবং এর ফলে যে মৃত্যুমিছিল শুরু হয়েছে, তার জন্য কমিশনকে ‘হত্যাকারী’ বলে দাগিয়ে দেন মমতা।

–

–

–

–

–

–


