লোকসভায় রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের উপর বক্তৃতা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে সরব বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর। ঠিক যে প্রশ্ন লোকসভার বাজেট অধিবেশন শুরুর আগে বাংলার শাসকদলের সাংসদরা তুলেছিলেন, সেই প্রশ্নের সামনে নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) সরকার। লোকসভা যেন শাসকদলের বিজ্ঞাপনের জায়গা না হয়ে বিরোধী কণ্ঠস্বর তুলে ধরে আলোচনার জায়গা হয়, তার দাবিতে ফের কোপ মোদি সরকারের। ভারত-চিন অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে মোদির সরকারের স্বরূপ তুলে ধরায় মঙ্গলবারও বলতে দেওয়া হল না কংগ্রেস (Congress) সাংসদকে। সাম্প্রতিক একাধিক ইস্যুতে যেভাবে নরেন্দ্র মোদির আসল চেহারা ফাঁস হয়ে গিয়েছে, তারই ভয়ে বিরোধী দলনেতাকে বলতে দেওয়া হল না, দাবি রাহুল গান্ধীর Rahul Gandhi)।

সোমবারের পরে মঙ্গলবার ফের প্রাক্তন সেনাকর্তা এমএম নারাভনের লেখা অপ্রকাশিত বই নিয়ে উত্তাল লোকসভার (Loksabha) অধিবেশন। রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের জবাবি ভাষণ দিতে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী উঠলে তিনি সোমবারের অর্ধসমাপ্ত ভাষণ প্রসঙ্গ টেনে আনেন, যেখানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের প্রশ্নের উত্তরে বইয়ের অংশ তুলে ধরার চেষ্টা করেন তিনি।

সেখানেই তাঁকে বাধার মুখে পড়তে হয়। অপ্রকাশিত বই থেকে উদ্ধৃতির অভিযোগে বলতে দেওয়া হয়নি রাহুলকে। তাতেই লোসকসভায় প্রতিবাদে সামিল হন কংগ্রেস সাংসদরা। কংগ্রেসের আট সাংসদকে (Congress MP) সাসপেন্ড করা হয়। প্রতিবাদে লোকসভায় (Loksabha) ওয়াকআউট করে কংগ্রেস। সেই সঙ্গে রাহুল গান্ধী স্পিকার ওম বিড়লাকে (Speaker Om Birla) লিখিত অভিযোগ জানান, তাঁর বক্তৃতা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে।

সংসদের বাইরে কংগ্রেস বিক্ষোভ দেখায় মঙ্গলবার এই ইস্যুতে। সেখানেই রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তোলেন, নরেন্দ্র মোদির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে। তিনি দাবি করেন, নরেন্দ্র মোদির যে প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়েছে তা বেলুনের হাওয়া বেরিয়ে যাওয়ার মতো চুপসে যেতে পারে। সেই ভয়ে তিনি বিরোধী দলনেতার কণ্ঠরোধ করছেন।

সাম্প্রতিক তিন ইস্যুতে মোদির মুখোশ খুলে যাওয়ার দাবি করেন রাহুল। তাঁর দাবি, আমেরিকার সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি চার মাস ধরে আটকে ছিল, তা গতকাল সন্ধ্যায় হঠাৎ করে স্বাক্ষরিত হল। তাঁর উপর ভয়ঙ্কর চাপ ছিল। তাঁর উপর প্রবল চাপ ছিল। নারাভানের বক্তব্য কোনও বিষয়ই নয়। এটা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। আসলে ভারতের কৃষকদের বুঝতে হবে যে, এই বাণিজ্য চুক্তিতে তাঁদের ঘাম রক্তের পরিশ্রমকে বিক্রি করে দিয়েছেন মোদি (Narendra Modi)। তাই আমায় বলতে দেওয়া হয়নি লোকসভায় (Loksabha)।

আরও পড়ুন : এপস্টেইন ফাইল থেকে কাদের নাম মোছার চেষ্টা আমেরিকার: তালিকায় নেই মোদি

আরও দুই কারণের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে রাহুল গান্ধী তুলে ধরেন, আমেরিকায় আদানির একটি মামলা রয়েছে। সেটিও আদতে আদানির উপরে নয়, মোদির উপর জারি হওয়া মামলা। আরেকটি হল এপস্টেইন ফাইলস (Epstein Files)। সেখানে আরও অনেক কিছু রয়েছে। আমেরিকা এখনও ফাইলের সবটা প্রকাশ্যে আনেনি। সেই সব প্রকাশিত হলে প্রমাণিত হবে মোদি আপস করেছেন আমেরিকার সঙ্গে। তাই আমায় বলতে দেওয়া হয়নি।

–

–

–


