‘ভুল চিকিৎসায়’ ঠাকুমার মৃত্যু হয়েছে, এই আক্রোশে এক হাতুড়ে চিকিৎসককে চেম্বারে ঢুকে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে বর্ধমান শহরের বাদামতলা এলাকার এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহতের নাম রাজা ভৌমিক (৪৫)। অভিযুক্ত জীবন রুইদাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। খুনের পর রক্তমাখা কাটারি হাতে নিজেই থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন ওই যুবক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান শহরের বাবুরবাগ কালিতলা এলাকার বাসিন্দা রাজা ভৌমিক আগে এক নামী অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞের কম্পাউন্ডার হিসেবে কাজ করতেন। বছর দুয়েক আগে তিনি আরএমপি ডিগ্রি অর্জন করে বাদামতলা এলাকায় নিজের একটি চেম্বার খোলেন। মঙ্গলবার দুপুর ১টা নাগাদ সেই চেম্বারেই চড়াও হয় শক্তিগড়ের আমড়া এলাকার বাসিন্দা জীবন রুইদাস। অভিযোগ, সাথে আনা কাটারি দিয়ে রাজাবাবুকে এলোপাথাড়ি কোপাতে শুরু করে সে। রক্তাক্ত অবস্থায় চিকিৎসকের দেহ মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয় জীবন।

ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে যান আশেপাশের ব্যবসায়ীরা। তবে নাটকীয় মোড় নেয় কিছুক্ষণ পরেই। অভিযুক্ত যুবক সরাসরি বর্ধমান থানায় হাজির হয়ে কর্তব্যরত ডিউটি অফিসারের সামনে রক্তমাখা অস্ত্রটি টেবিলের ওপর রেখে খুনের কথা কবুল করে। জীবনের দাবি, তার ৮৪ বছরের বৃদ্ধা ঠাকুমার চিকিৎসা করছিলেন ওই হাতুড়ে চিকিৎসক। গত ৩১ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। জীবনের অভিযোগ, রাজার ভুল চিকিৎসার কারণেই তাঁর ঠাকুমাকে অকালে প্রাণ হারাতে হয়েছে। সেই প্রতিশোধ নিতেই এই খুন।

পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত দেহটি উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত চিকিৎসকের পরিজনরা জানিয়েছেন, একসময় মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে কাজ করা রাজা নিজের চেষ্টায় এলাকায় পসার জমিয়েছিলেন। এ দিন সকালে রোগী দেখার মাঝেই এই হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই এই খুন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্ধমান শহরের ব্যস্ততম এলাকায় দিনের আলোয় এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ধৃত যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছে পুলিশ।

আরও পড়ুন – ইতিহাসে প্রথমবার বিরোধী দলনেতার কণ্ঠরোধ! মোদির মার্কিন আপস নিয়ে তোপ রাহুলের

_

_

_

_
_


