
কুণাল ঘোষ
চন্দন সেনের ‘দায়বদ্ধ’কে যেভাবে ফিরিয়ে আনল ‘বাংলা অপেরা’, তারিফ করার মত। ইউনিভার্সিটি ইন্সটিটিউট হলে পঞ্চাশতম শো-টি দেখলাম। সাংসদ পার্থ ভৌমিক (Partha Bhowmik) এবং সহকর্মীরা অসাধারণ কাজ করেছেন। নাটক, ঘটনাক্রম, চরিত্রগুলি যেভাবে প্রথম থেকে শেষ এক টানটান অনুভূতি দিয়েছে, তার জন্য একাধিকবার দেখাই যায়।
পারিবারিক অশান্তিতে শিশু কন্যাকে নিয়ে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছিল সীতা। উদ্ধার করে ট্রাক চালক গগন। তারপর এক নতুন ঠিকানার কলোনীতে তাদের বসবাস। মেয়েকে নিজের মেয়ে হিসেবেই বড় করেছে গগন। কিন্তু সন্দেহগ্রস্ত সীতা বাবা-মেয়ের সম্পর্কে স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। যেদিন কন্যা, কলোনী ও সমাজের কাজে সত্যিটা সামনে এলো, তখনই বিপজ্জনক জলোচ্ছ্বাস।

এহেন সম্পর্কের ওঠানামার কাহিনিকে মঞ্চে সফলভাবে নামানো বড় কম কথা নয়। কিন্তু এই টিম সেটা করেছে। গগন- সীতার বাধ্যতামূলক সহাবস্থানের আড়ালে আলাদা শ্রেণীচরিত্র, রুচি, সংস্কৃতি, অপ্রাপ্তি, এগুলোর এতরকম শেড, পার্থ ভৌমিক এবং দেবযানী সিংহ চরম দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন। ঋক দেব, দেবারতি সিংহরায়ও যথাযথ। পরিচালনা, আবহ, মঞ্চ, আলো, শব্দ যথাযথ। ‘দায়বদ্ধ’ পুরনো নাটক, কিন্তু ‘বাংলা অপেরা’ আজও তাকে সমকালীন করে রাখল। রাজনীতিবিদ পার্থ অভিনেতা হিসেবে আবারও বুঝিয়ে দিলেন করালীবাবু থেকে গগন, তিনি আরও ধারালো হয়ে উঠছেন। 

আমি নাটক দেখতে ভালোবাসি। ব্রাত্য বসুকে (Bratya Basu) অলরাউন্ডার মানি। দেবশঙ্কর হালদারকে মনে করি ঈশ্বরদত্ত প্রতিভা। এছাড়া কৌশিক সেন, অর্পিতা ঘোষ দারুণ কাজ করছেন। একঝাঁক নতুন শিল্পী উঠছেন। তার মধ্যে ব্রাত্যজন ও তার শাখাপ্রশাখা, নৈহাটি ব্রাত্যজন, নৈহাটি নাট্যসমন্বয়, অধুনা রানা সরকারের পৃষ্ঠপোষকটায় ‘বাংলা অপেরা’ নজর কাড়ছে। গ্রুপ থিয়েটারের (Group Theater) বাণিজ্যকরণ ইতিবাচকভাবে হচ্ছে। পার্থ ভৌমিকরা (Partha Bhowmik) জনপ্রিয় বাংলা ও হিন্দি সিনেমাকে নাটকে নামিয়েছেন। পুরনো নাটক রিমেক করছেন। আবার নতুন নাটকও করছেন। নতুন মুখ উঠে আসছে। ঋক দেব, ভাস্কর মুখোপাধ্যায়রা সম্পদ। আর দেবযানী সিংহকে যত দেখছি, মুগ্ধ হচ্ছি। দারুণ শক্তিশালী অভিনেত্রী। গগন-সীতার জোয়ার ভাঁটা দেখাটা একটা দারুণ অভিজ্ঞতা। ‘দায়বদ্ধ’ দেখার মত, দেখানোর মত। একদিন শততম শো হবে, শুভেচ্ছা রইল। 

–

–

–

–

–

–


