অপরিকল্পিত SIR। বাংলাকে টার্গেট করে হেনস্থা। আতঙ্কে দেড়শো প্রাণহানি। সেই নিয়ে প্রথম থেকে প্রতিবাদে সরব তৃণমূল। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি থেকে শুরু করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় মোদি সরকারকে এক তিরে বিদ্ধ করেছিলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। দিল্লি গিয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের চোখে চোখ রেখে বলেছিলেন, আমি নির্বাচন, আপনি মনোনীত। আঙুল নামিয়ে কথা বলুন। এবার বাংলার মানুষের SIR-হেনস্থা নিয়ে কলম ধরলেন তৃণমূলের সেনাপতি। লিখলেন আগুন ঝরা কবিতা।
নিজের স্যোশাল মিডিয়া পেজে নিজের লেখা কবিতা পোস্ট করেন অভিষেক। লেখেন,
“আমি অস্বীকার করি।
আমি অস্বীকার করি -এই হঠকারিতা, এই তালিকার শাসন, এই ভয়ের রাজত্ব। আমি অস্বীকার করি- রাষ্ট্রের নামে রক্তের ঋণ, আমি অস্বীকার করি- রক্তের উপর কালির শাসন।
আমাদের বলা হল – “নাম দাও”, “কাগজ দেখাও” আর আমরা দিলাম ইতিহাস, মাটি, আর ঘাম-ঝরা জন্মভূমি।
তারা বললো – “এগুলো যথেষ্ট নয়” আমরা বললাম তবে বলো কোন ধারায় মৃত্যু বৈধ হল?
১৫০ (একশো পঞ্চাশ) – এটা সংখ্যা নয়, এটা রাষ্ট্রের লাগানো আগুনে মানুষের চিৎকার। এ এক থেমে যাওয়া গান। এক মুছে যাওয়া মুখ। রাষ্ট্রের খাতায় ঠাঁই পায় প্রাণের বদলে পরিসংখ্যান, শাসকের বুটের তলায় পিষে যায় বিবেক, সত্য আর সম্মান।
যে দেশ জন্মেছিল আপোষহীন আন্দোলন ও প্রশ্নের আগুনে সে দেশ নোয়াবে না মাথা ধর্মের শাসনে। নাগরিকত্ব যদি বন্দি হয় কাগজের জালে তবে মানুষ যাবে কোথায় সংবিধানের কালে? যে আইন মানুষ ছেঁটে ফেলে, মানুষের প্রাণ নেয় কেড়ে সে আইন; আইন নয় সে আইন ফাঁসি।
আমি শান্তি চাই না অন্যায়ের সঙ্গে! আমি নীরবতা চাই না লাশের উপর! যারা চুপ থাকে এই মুহূর্তে, তারাই ইতিহাসে অপরাধী স্তব্ধ স্বর আমি শুধু একজন মানুষ নই – আজ আমি সাক্ষী, আর সাক্ষী যখন কথা বলে সিংহাসন তখন কাঁপে।
আর ইতিহাস সে ক্ষমা করে না, তালিকা পড়ে না। ইতিহাস মনে রাখে কে রুখেছিল, কে লড়াই করেছিল, কে দাঁড়িয়েছিল, আর কে আগুন লাগিয়েছিল! যে শাসক অহঙ্কারে কথা বলে যে শাসক মানুষের কথা শোনে না যে ক্ষমতা মানুষকে তুচ্ছ করে, ইতিহাস তাকে কখনো ক্ষমা করে না।“

–

–

–

–

–

–

–

–


