মোদি জমানায় ‘অন্নদাতা’ কৃষকরা অসম প্রতিযোগিতায় পড়ে ধ্বংসের মুখে এসে পড়েছেন। ২০২৬-২৭ সালের কেন্দ্রীয় বাজেট তা ফের একবার নির্মমভাবে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল। এবারের বাজেট প্রমাণ করে দিল এই সরকার আসলে বিদেশি সিন্ডিকেটের পূজারি। মোদি সরকারের কাছে সাধারণ কৃষকদের অস্তিত্বের কোনও দাম নেই। সম্প্রতি আমেরিকা থেকে সয়াবিন তেল এবং জোয়ারের মতো কৃষিপণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক কমিয়ে মোদি সরকার বিদেশি সিন্ডিকেটকেই আহ্বান করেছে ভারতীয় বাজারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে মোদি সরকারের এই জুমলা প্রকাশ করে দিয়েছে তৃণমূল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির কৃষক-বিরোধী অবস্থান স্পষ্ট করে তৃণমূল জানিয়েছে, মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে স্থানীয় ফসলের দাম তলানিতে নেমে গিয়েছে। দেশের বাজারে ছেয়ে গিয়েছে বিদেশি পণ্য। অর্থমন্ত্রী এবার বাজেটে হিরে-জহরত ব্যবসায়ী এবং বিমান সংস্থাগুলির জন্য ‘শুল্কমুক্ত’ লাল গালিচা পেতে দিয়ে ভারতের কৃষকদের হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন মৃত্যু পরোয়ানা। সরকারি সহায়তা মিলছে না, বাজার হারিয়ে ধুঁকছে দেশের কৃষক সমাজ। মোদি সরকারের এই অবস্থানকে বিশ্বাসঘাতকতা বলে ব্যাখ্যা করে তৃণমূল লিখেছে, সংখ্যার হিসেবেই স্পষ্ট যে, কৃষি ও আনুষঙ্গিক ক্ষেত্রের ওপর দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল, তাদের জন্য বাজেটে বরাদ্দ মাত্র ৫.৩১ শতাংশ। আইনগতভাবে ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের কোনও গ্যারান্টির উল্লেখ নেই, সংকটের সময় ফসল কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হওয়া কৃষকদের জন্য কোনও মূল্য-স্থিতিকরণ তহবিল নেই এবং সার ভর্তুকিতে বিস্ময়করভাবে বড় কাটছাঁট করা হয়েছে। একদিকে যখন কোটিপতি হিরে ব্যবসায়ীরা করছাড়ের উৎসবে মেতেছে, তখন সাধারণ কৃষকদের ডিজেল আর বিদ্যুতের আকাশছোঁয়া খরচের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে। রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির বাজারে ‘পিএম-কিষাণ’ প্রকল্প আজ সম্পূর্ণ অন্তঃসারশূন্য।

আরও পড়ুন- বেআইনি মদের কারবারে বাজেয়াপ্ত গাড়ি নিলামে বিপুল আয়, কোষাগার ভরছে আবগারি দফতরের

_

_

_

_

_

_

_
_

