সংস্কৃতি ও ভাষা সংরক্ষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial Intelligence in India) প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহার জোরদার করছে ভারত সরকার। এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে ভাষিনী, অনুবাদিনী, জ্ঞান ভারতম এবং আদি বাণীর মতো জাতীয় প্ল্যাটফর্ম।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পাণ্ডুলিপি ডিজিটাইজেশন, শিক্ষাগত ও জ্ঞানভিত্তিক বিষয়বস্তুর বহুভাষিক অনুবাদ এবং আদিবাসী ও বিলুপ্তপ্রায় ভাষার অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভারতের সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানসম্পদকে ডিজিটালভাবে ব্যবহারযোগ্য করে তোলা হচ্ছে। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল ক্ষেত্রগুলিকে ডিজিটাল ভ্যালু চেনের সঙ্গে যুক্ত করতে এআই-নির্ভর প্রযুক্তির প্রয়োগ বাড়ানো হয়েছে।

এই ভাষাগত পরিকাঠামোর প্রধান স্তম্ভগুলি হল:
জাতীয় ভাষা অনুবাদ মিশন ভাষিনী: ২০২২ সালে জাতীয় ভাষা অনুবাদ মিশনের অধীনে ভাষিনী শুরু হয়েছে। ডিজিটাল পরিসরে ভারতের বিস্তৃত ভাষাগত বৈচিত্র্যের চাহিদা পূরণ করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। ভাষিনীর ব্যবহারিক উদাহরণ: কাশী তামিল সঙ্গমম ২.০-এ রিয়েল-টাইম বক্তৃতা অনুবাদ, বারাণসীতে অনুষ্ঠিত কাশী তামিল সঙ্গমম অনুষ্ঠানে ভাষিনী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
মহাকুম্ভ ২০২৫-এ বহুভাষিক সহায়তা: মহাকুম্ভ ২০২৫-এ ভাষিনী পরিচালিত ‘কুম্ভ সহায়ক’ চ্যাটবট ব্যবহৃত হয়েছে। মোট ১১টি ভাষায় এই ভয়েস-সক্ষম সহকারি তীর্থযাত্রীদের পথনির্দেশ ও অনুষ্ঠান সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করেছে।
ভারতীয় ভাষার জন্য প্রযুক্তি উন্নয়ন (টিডিআইএল): টিডিআইএল ভারতের একটি দীর্ঘস্থায়ী সরকারি কর্মসূচি। ভারতীয় ভাষা কম্পিউটিংয়ের মৌলিক প্রযুক্তিগত ভিত্তি এই কর্মসূচির মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। একাধিক ভারতীয় ভাষায় লিপি, বক্তৃতা ও পাঠ্য প্রযুক্তি এর আওতায় এসেছে।
অনুবাদিনী (এআইসিটিই): অনুবাদিনী একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক বহুভাষিক অনুবাদ প্ল্যাটফর্ম। সর্বভারতীয় কারিগরি শিক্ষা পরিষদ এই প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করেছে। শিক্ষাগত, কারিগরি ও জ্ঞানভিত্তিক বিষয়বস্তু ভারতীয় ভাষায় বৃহৎ স্তরে অনুবাদ করাই এর লক্ষ্য।
জ্ঞান ভারতম মিশন: জ্ঞান ভারতম একটি জাতীয় মিশন। ভারতের পাণ্ডুলিপি-ভিত্তিক ঐতিহ্য ও প্রথাগত জ্ঞানব্যবস্থার সমীক্ষা, নথিভুক্তিকরণ, ডিজিটাইজেশন ও প্রচার এই মিশনের আওতায় রয়েছে। জাতীয় ডিজিটাল ভাণ্ডার গঠন এই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পাশাপাশি জ্ঞান ভারতম মিশনের অধীনে পাণ্ডুলিপিভিত্তিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও ডিজিটাইজেশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই মিশনের অংশ হিসেবে ‘জ্ঞান-সেতু’ কর্মসূচির মাধ্যমে এআই-নির্ভর সমাধান উদ্ভাবনে জোর দেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন: উচ্চ মাধ্যমিকে আর নেওয়া যাবে না অতিরিক্ত পাতা! নিয়ম বদল শিক্ষা সংসদের

আদিবাসী ভাষার সংরক্ষণ ও প্রসারের লক্ষ্যে ‘আদি বাণী’ নামে এআই-ভিত্তিক একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। সরকারের মতে, এই সব উদ্যোগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে জনকল্যাণমূলক সম্পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবে এবং ভারতের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে।

–

–

–

–

–

–

