পেটের টানে ভিনরাজ্যে গিয়ে ফের চরম লাঞ্ছনার শিকার হলেন বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকরা। এবার ঘটনাস্থল ওড়িশা। বাংলাদেশি সন্দেহে মালদহের তিন শ্রমিককে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। ঘটনার জেরে চরম আতঙ্কে দিন কাটছে তাঁদের। কাজ হারিয়ে বর্তমানে তাঁরা ওড়িশার জগৎসিংপুর জেলার বালিকুদা এলাকায় ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন।

আক্রান্ত তিন শ্রমিকের নাম আনারুল হক, হেফজুর রহমান ও আবু হানজেরা। এদের মধ্যে আনারুল ও হেফজুরের বাড়ি মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুরে এবং আবু রতুয়ার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা জগৎসিংপুর এলাকায় থেকে সাইকেল ও বাইকে করে প্লাস্টিকের হরেক মাল বিক্রি করেন। আনারুল গত দশ বছর ধরে সপরিবারে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। অভিযোগ, সোমবার এলাকায় ফেরি করার সময় স্থানীয় কিছু যুবক তাঁদের ঘিরে ধরে। কোনও প্রমাণ ছাড়াই তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় অশ্রাব্য গালিগালাজ ও মারধর। এমনকি দ্রুত ওড়িশা না ছাড়লে তাঁদের প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলেও চরম হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

আক্রান্ত আনারুল হকের দাবি, রাস্তায় দেখলেই মারতে তেড়ে আসছে একদল যুবক। পুলিশে অভিযোগ জানালেও হামলাকারীদের নাম না জানায় তদন্ত এগোচ্ছে না। হেফজুর রহমানের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে তাঁকে সশরীরে প্রাণে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল, পুলিশ কোনওরকমে এসে তাঁকে উদ্ধার করে। এর আগেও এই শ্রমিকদের ভিনরাজ্যে পুলিশি হেনস্থার শিকার হতে হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই সময় রাজ্য সরকারের তৎপরতায় তাঁরা রেহাই পেলেও পরিস্থিতি যে বদলায়নি, এই ঘটনাই তার প্রমাণ।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। মালদহ জেলা তৃণমূল সভাপতি আবদুর রহিম বক্সী ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, কেবল বাঙালি হওয়ার কারণে এবং বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্যই বারবার পরিযায়ী শ্রমিকদের টার্গেট করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে শ্রমিকদের নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন তিনি। আপাতত আতঙ্কের প্রহর গুনছেন ওই তিন পরিবার। রোজগার বন্ধ হওয়ায় দু’বেলা খাবার জোটানোই এখন তাঁদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন- কনস্টেবল নিয়োগ: ইন্টারভিউয়ের আগেই প্রকাশ করতে হবে পূর্ণাঙ্গ মেধা তালিকা, নির্দেশ হাইকোর্টের

_

_

_

_

_
_


