বাংলায় আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে চলেছে অ্যাডামাস ইউনিভার্সিটি (Adamas University)। একদিকে আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মতো পাঠক্রম, অন্যদিকে উচ্চমানের পাঠদানে ক্রমশ শিক্ষার্থীদের কাছেও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মঙ্গলবার তারই নবম সমাবর্তন (convocation) অনুষ্ঠিত হল বিশ্ববিদ্যালয়ের বারাসত ক্যাম্পাসে (Barasat campus)।


আত্মপ্রকাশের পর এক দশকও পেরোয়নি। ন্যাকের (NAAC) ‘এ’ গ্রেড প্রাপ্ত এই বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ব ভারতের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে খুব দ্রুত এক স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তুলেছে। মঙ্গলবার বারাসতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নবম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস (Governor, C V Ananda Bose)। ছাত্র-যুব সমাজ গঠনে স্বামী বিবেকানন্দর কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। জ্ঞান, উদ্ভাবন ও নৈতিকতার মাধ্যমে দেশগঠনে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।


সমাবর্তনে সভাপতিত্ব করেন অ্যাডামাস বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য অধ্যাপক সমিত রায় (Samit Ray) এবং উপাচার্য অধ্যাপক সুরঞ্জন দাস (Suranjan Das)। উপস্থিত ছিলেন অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন (এআইসিটিই)-এর প্রাক্তন চেয়ারম্যান ড. টি জি সীতারাম।


সেমিকন্ডাক্টর হাব গড়ে উঠছে পশ্চিমবঙ্গে। অ্যাডামাসেও সেমিকন্ডাক্টর (semiconductor), ভিএলএসআই, এআই (AI), নিউ এনার্জির (new energy) মতো বিষয়ে পড়াশোনা ও গবেষণার যে বৃহৎ পরিসর তৈরি করা হয়েছে তার ভূয়সী প্রশংসা শোনা গেল সীতারামের ভাষণে। তিনি বলেন, যে এআই (AI) টেকনোলজিকে গ্রহণ করবে সে আগামিদিনে সফল হবে। তাই সবাইকে এক্ষেত্রে স্কিলিং, আপস্কিলিং, রিস্কিলিং-এ জোর দিতে হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভিএলএসআই সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার সভাপতি ড. সত্য গুপ্ত এবং এ কে চৌধুরি স্কুল অফ ইনফরমেশন টেকনোলজির অধিকর্তা অধ্যাপক অম্লান চক্রবর্তী-সহ বিশিষ্টরা।


সমাবর্তন উপলক্ষ্যে আচার্য অধ্যাপক সমিত রায় (Samit Ray) জানান, সমাবর্তন (convocation) কেবল শিক্ষাজীবনের সমাপ্তি নয়, বরং বৃহত্তর দায়িত্ব গ্রহণের সূচনা। আ্যডামাস বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বমানের, সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ ও শিল্প-সংহতিকরনে প্রস্তুত স্নাতক তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যারা জ্ঞান, নৈতিকতা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে নেতৃত্ব দেবে। পশ্চিমবঙ্গে আমাদের এখানেই প্রথম আর্টস, কমার্স, টেকনোলজি সব শাখাতেই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স পড়ানো হচ্ছে। আইন, কৃষি, ভাষা-সাহিত্যেও এআই-এর ব্যবহার শেখানো হয়।

আরও পড়ুন : কনস্টেবল নিয়োগ: ইন্টারভিউয়ের আগেই প্রকাশ করতে হবে পূর্ণাঙ্গ মেধা তালিকা, নির্দেশ হাইকোর্টের


নবম সমাবর্তনে মোট ১,৫২৭ জন পড়ুয়াকে বিভিন্ন পাঠক্রমে ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এর মধ্যে ৯৯২ জন স্নাতক, ৪৫৭ জন স্নাতকোত্তর, ২২ জন পিএইচডি, ৫৪ জন ডিপ্লোমা প্রাপক এবং জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইপি) কাঠামোর অধীনে ২ জন পড়ুয়া ডিগ্রি অর্জন করেন। কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ১২ জনকে স্বর্ণপদক এবং ২০ জনকে রৌপ্যপদক প্রদান করা হয়। এছাড়াও ইন্দ্রজিৎ মিত্র, আশীষ আগরওয়াল, অজিত সিং এবং প্রীতম নাগারিগারিকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য সাম্মানিক ডক্টরেট সম্মান দেওয়া হয়।



