রাজ্যের সেচ ও জলনিকাশি ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে একগুচ্ছ নতুন কর্মসূচির কথা ঘোষণা করলেন সেচ ও জলপথ মন্ত্রী মানস রঞ্জন ভুঁইয়া। বৃহস্পতিবার দফতরের এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, খালের রক্ষণাবেক্ষণ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় নদী ব্যবস্থাপনা— একাধিক স্তরে কাজ শুরু করছে রাজ্য সরকার। বিশেষত, নিকাশি নালা পরিষ্কারের কাজে যুক্ত শ্রমিকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শহরাঞ্চলের প্রায় ১,৩৯৪ কিলোমিটার ড্রেনেজ চ্যানেলের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এ দিন ২৯ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, কলকাতা পুরসভা ও বিভিন্ন নগর এলাকায় এই সংস্কার কাজ চালানো হবে, যা মূলত বর্ষায় জলনিকাশি এবং মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সাহায্য করবে। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে খালে আবর্জনা বা পশুর মৃতদেহ ফেলার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি স্থানীয় প্রশাসন ও পঞ্চায়েত স্তরে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।

কৃষকদের সুবিধার্থে সেচ ব্যবস্থার খতিয়ান তুলে ধরে মানস ভুঁইয়া জানান, বর্তমানে রাজ্যে ১৬ লক্ষ একরের বেশি জমিতে ক্যানেল জলের মাধ্যমে সেচ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রবি ও বোরো চাষে লক্ষ লক্ষ কৃষক উপকৃত হচ্ছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ক্যানেল জলের কর ইতিমধ্যেই তুলে দেওয়া হয়েছে এবং কৃষকবন্ধু প্রকল্পের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা জারি রয়েছে। এ দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা ছিল খাল পরিষ্কারকারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা। সাপের কামড় বা দূষিত জল থেকে হওয়া রোগব্যাধি রুখতে শ্রমিকদের জন্য বুট, গ্লাভস ও সুরক্ষাপোশাক নিশ্চিত করতে কড়া শর্ত আনা হচ্ছে। পাশাপাশি, ইছামতি ও জলঙ্গি নদীর পলি সমস্যা সমাধানে জার্মানির একটি সংস্থার সঙ্গে আগামী সপ্তাহেই সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে মন্ত্রী জানান। সুন্দরবন ও সাগরদ্বীপে ভাঙন রোধে আন্তর্জাতিক স্তরের প্রকল্পগুলি নিয়েও রাজ্য আশাবাদী।

আরও পড়ুন- ধর্মঘটের ডাক ব্যর্থ! জেলায় জেলায় সরকারি অফিসে স্বাভাবিক কাজকর্ম

_

_

_

_

_

_
_


