নারী ক্ষমতায়নের গাল ভরা কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর অনুচরেরা গোটা দেশে প্রচার চালান। তবে বিজেপি যে কতটা নারী বিরোধী তার সবথেকে বড় শিকার বিজেপি শাসিত রাজ্য়ের মহিলারা। বিজেপির শাসিত ছত্তিশগড়ে একজন অঙ্গনওয়াড়ি থেকে সরকারি স্কুলের মিড-ডে মিল (mid-day meal) রাঁধুনিদের (cook) রোজগার দিনে ৬৬ টাকা, যাতে সারাদিনে একবেলা ভরপেট খাওয়া জোটাও সম্ভব নয়। বেতন বৃদ্ধির (wage hike) দাবিতে ডিসেম্বর মাস থেকে অনশনে (hunger strike) মিড-ডে মিল রাঁধুনিরা। সেই আন্দোলন চালাতে গিয়ে মৃত্য়ু হয়েছে এক আন্দোলনকারীরও। তারপরেও এই নারী সমাজের দিকে ফিরেও তাকায়নি বিজেপির বিষ্ণুদেও সাঁই (Vishnu Deo Sai) প্রশাসন।

বাংলায় অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী থেকে আশাকর্মীদের জন্য যেখানে কেন্দ্রের সরকারের থেকে কোনও উদ্যোগই নেই, সেখানে রাজ্যের তরফ থেকেই বারবার তাঁদের বেতন বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলেছে। তা সত্ত্বেও রাজ্যে কখনও এই কর্মীদের আন্দোলন হলে বিজেপি নেতারা মাঠে নেমে পড়েন রাজনীতি করতে। আদতে বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় থাকলে বাংলার অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী বা আশা কর্মীদের কী পরিস্থিতি হত, তার প্রমাণ ছত্তিশগড় (Chhattisgarh)। সেখানে সব ধরনের মিড-ডে মিল রাঁধুনিদের মাসিক বেতন ২০০০ টাকা।

২০২১ সালে কংগ্রেস জমানায় মিড-ডে মিল রান্নার প্রকল্প শুরু হয়েছিল ছত্তিশগড়ে। তখন মাসিক সাম্মানিক ১০০০ টাকা দেওয়া হত। পরে কংগ্রেস আমলেই সেই বেতন বেড়ে মাসিক ২০০০ টাকা করা হয়েছিল। ডবল ইঞ্জিন সরকার (double engine government) ক্ষমতায় এলে রাজ্যের মানুষের কোনও কষ্টই আর থাকবে না, এমনটা ভেবেছিলেন ছত্তিশগড়ের বাসিন্দারা। এই মিড-ডে মিল রাঁধুনিরাই কার্যত স্কুলগুলির মেরুদণ্ড। মিড-ডে মিলের টানে সরকারি স্কুলে বাড়ছে পড়ুয়ার সংখ্য়া। অথচ সরকারি বেতনে ঘর চলছে না এই রাঁধুনিদেরই।

ছত্তিশগড়ের মতো রাজ্যে এক থালা নিরামিশ খাবারের গড় দাম ৮০ টাকা। দৈনিক বেতন ৬৬ টাকা হওয়ায় মিড-ডে মিল রাঁধুনিদের নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা। সংসারে সন্তানদের পড়াশোনা করানো দায় তাঁদের। সেই পরিস্থিতিতে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ৮৭ হাজার মিড-ডে মিল রাঁধুনি পালা করে অনশন চালাচ্ছেন টুটাতে। গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর থেকে তাঁরা আন্দোলন চালাচ্ছেন। দাবি, বেতন দৈনিক (daily wage) ৬৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে দৈনিক ৪০০ টাকা করতে হবে।

আরও পড়ুন : Black Day- ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে কালো অধ্যায়: পুলওয়ামার শহিদদের স্মরণে আবেগঘন পোস্ট অভিষেকের

তাঁদের বেতন নিয়ে যে আন্দোলন তা নিয়ে বিন্দুমাত্র নজর নেই ছত্তিশগড় প্রশাসনের। কখনও তাঁদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলা বা আলোচনায় আসার পথেও যায়নি বিষ্ণুদেও সাঁই প্রশাসন। এই আন্দোলনে বসেই জানুয়ারি মাসের শেষদিকে দুলারি যাদব ও রুকমানি সিনহা নামে দুই কর্মীর মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। আন্দোলন থেকে পিছিয়ে আসা তো দূরের কথা, এই দুই মৃত্যুতে আন্দোলন আরও জোরদার হয়েছে। কিন্তু নিরুত্তর বিজেপির ডবল ইঞ্জিন সরকার।

–

–

–

–


