রাজ্যজুড়ে ফের শুরু হচ্ছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কৃষকবন্ধু ও যুবসাথী প্রকল্পের আবেদনপত্র গ্রহণ ও নথিভুক্তিকরণের কাজ। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে দুয়ারে সরকারের ধাঁচে বিশেষ শিবির করার নির্দেশ দিল নবান্ন। শনিবার মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ওই শিবিরগুলি থেকেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের নতুন আবেদনপত্র নেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুযায়ী, বিধানসভা ভিত্তিক এই শিবিরগুলি মূলত ব্লক অফিস ও পুরসভা ভবনগুলিতে আয়োজন করা হবে। তবে বিধানসভা এলাকার ভৌগোলিক আয়তন বড় হওয়ার কারণে একটি শিবিরের বদলে চার থেকে পাঁচটি জায়গায় শিবির করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে প্রয়োজনে স্কুলের মাঠকেও শিবিরের জন্য বেছে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলবে।

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ও কৃষকবন্ধু প্রকল্পের জন্য আধার কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবইয়ের প্রথম পাতার প্রতিলিপি এবং দু’কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি বাধ্যতামূলক। তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্তদের ক্ষেত্রে কাস্ট সার্টিফিকেটের প্রতিলিপি জমা দিতে হবে। অন্যদিকে, যুবসাথী প্রকল্পের ক্ষেত্রে মাধ্যমিক বা সমতুল পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ড ও মার্কশিটের প্রতিলিপি প্রয়োজন। আবেদনপত্র পূরণে সহায়তার জন্য প্রতিটি শিবিরে নারী ও শিশু কল্যাণ, কৃষি এবং ক্ষুদ্র সেচ দপ্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত থাকবেন।

এবারের বাজেটে প্রকল্পের অনুদানের অঙ্ক বাড়ানোয় আবেদনকারীদের ভিড় বাড়বে বলে মনে করছে প্রশাসন। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে সাধারণ মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিক ভাতা ১০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০০ টাকা এবং সংরক্ষিত শ্রেণির মহিলাদের জন্য ১২০০ টাকা বাড়িয়ে ১৭০০ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে কর্মহীন যুবক-যুবতীদের জন্য যুবসাথী প্রকল্পে প্রতি মাসে দেড় হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে, যা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত মিলবে। তবে শর্ত একটাই, অন্য কোনও সরকারি প্রকল্পে অনুদান পেলে যুবসাথীর সুবিধা পাওয়া যাবে না।

কৃষকবন্ধু প্রকল্পের আওতায় এবার ক্ষেতমজুরদেরও আনা হয়েছে। তাঁরা বছরে দু’টি কিস্তিতে মোট চার হাজার টাকা পাবেন। আগামী ১ এপ্রিল থেকে কৃষকবন্ধু ও যুবসাথী— এই দুই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া শুরু হবে। সমস্ত প্রকল্পের ক্ষেত্রেই আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। শিবিরের প্রচারের জন্য শনিবার থেকেই মাইকিং ও স্থানীয় স্তরে জনসংযোগ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।

আরও পড়ুন – বাংলা বলায় খুন জেলার ছেলে: প্রতিবাদে, মিছিলে সরব পুরুলিয়া

_

_

_

_
_


