Monday, February 16, 2026

বেছে বেছে বাংলার জন্যই নতুন নিয়ম: সরকারি বাড়ির নথিতেও গ্রাহ্য নয় ভোটাধিকার!

Date:

Share post:

এসআইআর-এর শুনানি প্রক্রিয়া সমাপ্ত। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির তকমা মুছতে সাধারণ ভোটাররা যে নথি জমা দেওয়ার তা দিয়ে ফেলেছেন। সোমবারের মধ্যে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ফর্ম ৭ নিয়ে যাবতীয় কাজ শেষ করার নির্দেশও দিয়ে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এখন নতুন করে নির্দেশিকা জারি করা হল, সরকারের দেওয়া কোনও ধরনের আবাস যোজনার (housing scheme) নথি ভোটারের প্রামাণ্য হিসাবে গৃহিত হবে না। সেখানেই বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রশ্ন, সাংবিধানিক সংস্থা (constitutional body) হয়েও নির্বাচন কমিশন কীভাবে সরকারের অর্থে দেওয়া যোজনার নথিকে অস্বীকার করে? বাস্তবে এটা বেছে বেছে বাংলার ভোটারদের (voter) নাম দেওয়ার আরও একটি চক্রান্ত।

দিল্লির নির্বাচন কমিশন যে সূচি তৈরি করেছিল, তাতে এতদিনে বাংলার ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়ে যাওয়ার দিন পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি (logical discrepancy) বলে যে নতুন খেলা বাংলার ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য খেলতে গিয়েছিল নির্বাচন কমিশন ও সিইসি জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar, CEC), তা বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে আটকে গিয়েছে। এসআইআর শুনানি (SIR hearing) পর্যন্ত প্রায় ৬৪ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা (voter list) থেকে অযোগ্য বলে বাদ দেওয়ার দাবি করেছে নির্বাচন কমিশন। বাকি রয়েছে ফর্ম ৭ (Form 7) দিয়ে যে বিপুল পরিমাণ নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে, তার যাচাই।

সেই যাচাই (scrutiny) প্রক্রিয়া শুরু হতেই এবার নতুন নির্দেশিকা দিল্লির কমিশনের। জানানো হল – প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, ইন্দিরা আবাস যোজনা, বাংলার বাড়ি ইত্যাদি প্রকল্পে (government scheme) সরকারি ঘর বা জমি পাওয়ার নথি যদি ভোটার (voter) জমা দেন ভোটাধিকার প্রমাণের জন্য, তা গৃহিত হবে না। সেখানেই প্রশ্ন উঠেছে, ইতিমধ্যেই যাঁরা এই নথি দিয়ে ভোটাধিকার প্রমাণের চেষ্টা করেছেন, তাঁরা কীভাবে জানতে পারবেন এটা তাঁদের উপর নতুন করে চাপিয়ে দেওয়া শর্ত? আর তাহলে নতুন নথি জমা দেওয়ার সুযোগই বা পাবেন কীভাবে তাঁরা?

আরও পড়ুন : আরও দ্রুত কাজ: কর্তব্যে গাফিলতিতে রাজ্যের সাত আধিকারিককে সাসপেনশন কমিশনের!

সেখানেই নির্বাচন কমিশনের দ্বিচারিতাকে প্রশ্ন করা হয় বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ, যা বিজেপির ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশনের (One Nation One Election) নীতি নিয়ে চললেও আদতে বি-টিম দিয়ে বাংলার জন্য আলাদা নিয়ম তৈরি করে। যেখানে সাংবিধানিক সংস্থা হিসাবে কমিশনের দায়িত্ব সাধারণ মানুষের সাংবিধানিক অধিকারকে রক্ষা করা, সেখানে তারা একটি রাজনৈতিক দলের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত। আদতে এটি নির্বাচন কমিশন নয়, নির্বাচন অমিশন (Election Ommission)।

spot_img

Related articles

লাল হলুদের প্রথম একাদশে সাউল, টিফোতে গর্বের ইতিহাস সমর্থকদের

আইএসএলের (ISL) প্রথম ম্যাচ খেলতে নামল ইস্টবেঙ্গল(East Bengal)। নর্থইস্ট দলের বিরুদ্ধে ম্যাচে জল্পনা কাটিয়ে দলে থাকলেন সাউল ক্রেসপো।...

I.N.D.I.A.-র নেতৃত্বে উপযুক্ত ‘মুখ’ মমতা! মন্তব্য মনমোহনের উপদেষ্টা বারুর

বিজেপি বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের নেতৃত্বে একমাত্র 'উপযুক্ত' মুখ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মন্তব্য করলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের...

অভিষেকের সাহায্যে আপ্লুত: দুবাই পৌঁছে ধন্যবাদ-কৃতজ্ঞতা অঙ্কিতার, সাক্ষাৎ চান প্রিয় ‘দিদি’-‘দাদা’র সঙ্গে

পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতায় আন্তর্জাতিক পর্বে অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল কাঁথির তরুণী সঙ্গীতশিল্পী অঙ্কিতা প্রধানের (Ankita Pradhan)। তবে শেষ...

অভিষেকের সেবাশ্রয় ২-এর উদ্যোগে বিনামূল্যে স্বচ্ছ হল বয়স্কদের দৃষ্টি

নিজের লোকসভা এলাকার মানুষের জন্য 'সেবাশ্রয়' কর্মসূচি চালু করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ...