নির্বাচনের আগে জোট নিয়ে সমালোচনার মুখে সিপিআইএম। বাম শরিক থেকে পূর্বতন জোট শরিক – সকলেই সিপিআইএমের সমালোচনায়। দলের অভ্যন্তরেও যে ছবিটা একই তা কার্যত প্রমাণ করে দিয়েছে রাজ্য কমিটির সদস্য প্রতীক উর রহমানের (Pratik Ur Rahaman) চিঠি। এই চিঠিই যে এখন সিপিআইএমের (CPIM) গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা স্পষ্ট রাজ্য সম্পাদক থেকে প্রবীণ নেতাদের পদক্ষেপে। আসন্ন রাজ্য কমিটির বৈঠকে যে প্রতীক উরের পদত্যাগের বা দল ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশই বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়াতে চলেছে, জানাচ্ছেন খোদ রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Mohammed Selim)।

প্রতীকের সমালোচনার জায়গাতেও এখন নেই সিপিআইএম সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। প্রতীক যে দলবিরোধী কোনও কাজ করেননি, তা স্পষ্ট। যে চিঠি প্রকাশ্যে এসেছে তা তিনি কোনওভাবে প্রকাশ করেননি। প্রকাশ্যে কোথাও সেই চিঠির সত্যতা তিনি স্বীকার করেননি। জানিয়েছেন, দলের অভ্যন্তরে তাঁর পদক্ষেপ দলই নির্ধারণ করবে। কাজেই প্রতীক উরের দিকে আঙুল তোলার পথে আর এক্ষেত্রে যেতে পারেননি দলের অধঃস্তনদের দিকে বারবার আঙুল তোলা সেলিম।

তবে চিঠি যে তিনি দিয়েছেন তা স্বীকার করে নিয়েছেন সুজন চক্রবর্তী (Sujan Chakraborty)। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন প্রতীকের মতো নেতাদের অভিমান থাকতে পারে। সেই অভিমানের সঙ্গেই সহমর্মিতার সঙ্গে পাশে দাঁড়িয়ে সুজনের দাবি, প্রতীক উর রহমানের চিঠি আমিও দেখেছি। কেন লিখল, কী লিখল কথা বলার সুযোগ আমাদের আছে, থাকে। নিশ্চয়ই পরে কথা বলব। কম বয়সের ছেলে। ভালো ছেলে বলে আমরা তাদের সবাইকে ভালোবাসি। প্রশ্ন থাকতে পারে, অভিমান থাকতে পারে, জিজ্ঞাস্য থাকতে পারে। সেটা আলাপ আলোচনার যথেষ্ট সুযোগ আমাদের আছে। সেটা আমরা দেখব যেভাবে আমাদের পক্ষে দেখা সম্ভব।

দলের একাংশ, বলা যায় সিপিআইএমের (CPIM) একটা বড় অংশের যে প্রতীক উর রহমানের (Pratik Ur Rahaman) এই পদক্ষেপে সম্মতি রয়েছে তা স্পষ্ট সিপিআইএমের সমালোচনার ভঙ্গিতেই। সুর নরম হয়ে গিয়েছে শতরূপ ঘোষের মত নেতারও। সকলেই এখন প্রতীকের চিঠি নিয়ে আলোচনার পক্ষে সওয়াল করছেন। গলা উঁচু রাখলেও মহম্মদ সেলিম বলতে বাধ্য হচ্ছেন, পার্টির অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। সাংগঠনিক ব্যাপার। সোশ্যাল মিডিয়া বা মিডিয়া হয় না। সংগঠনের কমিটি মিটিংয়ে হয়। রাজ্য কমিটির মিটিং আছে। সেখানে আলোচনা হবে।

আরও পড়ুন : CPIM-এর কী প্রতিক্রিয়া: দেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ প্রতীকের

কার্যত নির্বাচনের আগে তরুণ প্রজন্মের দাপুটে ও জনপ্রিয় নেতা প্রতীককে যে কোনও মূল্যে সিপিআইএম হারাতে পারবে না, তা বুঝেই ঘা সারাতে তৎপরতা আলিমুদ্দিনে। গোটা বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে বামফ্রন্ট (Left Front) চেয়ারম্যান বিমান বসুর (Biman Bose) কাছে। একদিকে কোথায় ত্রুটি, তা খতিয়ে দেখার আবেদন যেমন একপক্ষ জানিয়েছে, আরেকপক্ষ প্রতীকের মতো নেতার মানভঞ্জনের আবেদনও জানিয়েছে। সেক্ষেত্রে সিপিআইএম রাজ্য কমিটির আসন্ন মিটিং যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে বাম নেতারা।

–

–

–

–


