দীর্ঘ আলোচনার পর নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ মেনে পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর পূর্ব এবং পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার দুই ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ইআরও) ও দুই অ্যাসিস্ট্যান্ট ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এইআরও)-র বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এর পাশাপাশি কাজে গাফিলতির অভিযোগে একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে খবর, গত বছরের অগস্ট মাসেই বারুইপুর পূর্ব ও ময়নার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিভাগীয় কারণে সাসপেন্ড করা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন এই বিষয়ে দ্রুত আইনি পদক্ষেপের জন্য রাজ্যকে অনুরোধ জানিয়ে আসছিল। সেইমতো একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই রাজ্য সরকার তাদের কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী দিল্লিতে কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এফআইআর দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

অন্যদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট-২ ব্লকের বিডিও সুমিত্র প্রতীম প্রধানের বিষয়েও প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, কমিশনের আগাম অনুমতি ছাড়া তিনি ১১ জন অতিরিক্ত এইআরও নিয়োগ করেছিলেন। প্রাথমিক তদন্তের পর তাঁকে সাসপেন্ড করার যে সুপারিশ করা হয়েছিল, তা দ্রুত কার্যকর করার বিষয়েও রাজ্য ইতিবাচক পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

প্রশাসনিক এই রদবদল নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, পুরো বিষয়টিই নিয়ম মেনে এবং সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী রায়ের প্রেক্ষিতে করা হচ্ছে। তাঁর মতে, ২০০০ সালের শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই ধরণের পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়।

তিনি আরও স্পষ্ট করেছেন যে, ভোটার তালিকা সংশোধনের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা (এসআইআর গাইডলাইন) লঙ্ঘনের কারণেই এই সাত জন আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী, রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আরও সুদৃঢ় হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন- SIR-এর নামে বৈধ ভোটারদের বাদ দেওয়ার চক্রান্ত! পিংলার মিছিলে গর্জে উঠলেন কুণাল

_

_

_

_
_


