কলকাতা কোনও বিভাজনের শহর নয়, বরং এই শহর সব ধর্মের মানুষের। পুরসভার বাজেট অধিবেশনের শেষ দিনে এই বার্তাই দিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। মঙ্গলবার উত্তপ্ত বাদানুবাদ আর বিরোধী বিক্ষোভের আবহে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের পুরবাজেট সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হল। তবে মেয়রের জবাবি ভাষণে এদিন আগাগোড়াই ছিল বিরোধীদের আক্রমণের মোকাবিলা এবং গত কয়েক বছরে শহরের ভোলবদল নিয়ে কড়া পরিসংখ্যান।

পুর অধিবেশনের শুরু থেকেই নিকাশি, জলাশয় ভরাট এবং বাজেট ঘাটতি নিয়ে সরব হয়েছিলেন হাতে গোনা কয়েকজন বিরোধী কাউন্সিলর। পরিস্থিতি সামাল দিতে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয় চেয়ারপার্সন মালা রায়কে। বিরোধীদের এই সমালোচনাকে ‘দিশাহীন’ বলে কটাক্ষ করে মেয়র জানান, গণতন্ত্রে সমালোচনা জরুরি হলেও বিরোধীদের থেকে গঠনমূলক কোনও পরামর্শ মেলেনি। উল্টে তিনি দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূরদর্শিতায় আজ কলকাতা আমূল বদলে গিয়েছে।

এদিন উন্নয়নের খতিয়ান দিতে গিয়ে মেয়র মূলত পরিশ্রুত পানীয় জল এবং নিকাশি ব্যবস্থার ওপর জোর দেন। তিনি ঘোষণা করেন, ভারতকে পথ দেখিয়ে কলকাতাই হবে দেশের প্রথম শহর যা ১০০ শতাংশ সারফেস ওয়াটারের ওপর নির্ভরশীল হবে। টালিনালার সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের জন্য ১০৯২ কোটি টাকার প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সম্পত্তি কর নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের জবাবে মেয়রের যুক্তি, সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি করের বোঝা না চাপিয়ে অ্যাসেসমেন্টের এলাকা বাড়িয়েই ২৭ শতাংশ আয়বৃদ্ধি করেছে পুরসভা।

অধিবেশনে মেয়রের সুরেই সুর মেলান মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার এবং স্বপন সমাদ্দার। জলাশয় ভরাট রুখতে পুরসভা কতটা তৎপর, তা বোঝাতে স্বপনবাবু জানান, গত এক বছরে আসা ৭৫টি অভিযোগের প্রতিটিতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কলকাতাতেই এশিয়ার প্রথম ‘মডেল বস্তি’ তৈরি হতে চলেছে বলেও দাবি করেন তিনি। অন্যদিকে, দিল্লি বা মুম্বইয়ের সঙ্গে তুলনা টেনে জল-ট্যাক্স না বসিয়েও কীভাবে উন্নয়ন সম্ভব, তা নিয়ে বিরোধীদের বিঁধেছেন দেবাশিস কুমার। সব মিলিয়ে বিরোধীদের একাংশের প্রশংসা আর বড় অংশের বিরোধিতার মাঝেই আগামীর কলকাতার রূপরেখা স্পষ্ট করতে চাইলেন মেয়র। তাঁর কথায়, সামর্থ্যের মধ্যে থেকেই এই শহরকে আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ করে তোলাই বর্তমান পুরবোর্ডের একমাত্র লক্ষ্য।

আরও পড়ুন- ১ মার্চ থেকে রাজ্যে বিজেপির ৯ রথ: ‘ট্যাক্সি’যাত্রা কটাক্ষ তৃণমূলের

_

_
_

_
_

_

