রাজ্যের স্কুলপড়ুয়াদের পুষ্টির নিরিখে এক বড়সড় পদক্ষেপ করল শিক্ষা দফতর। এবার মিড ডে মিলের পাতে নিয়মিত বরাদ্দের বাইরেও মিলবে অতিরিক্ত ডিম। মূলত পড়ুয়াদের স্বাস্থ্যের মানোন্নয়নেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে খবর। শিক্ষা দফতরের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্যের মোট ৮১ লক্ষ ১৯ হাজার ৪১৫ জন পড়ুয়াকে আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত অতিরিক্ত ১২টি করে ডিম দেওয়া হবে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী পড়ুয়ারা সপ্তাহে একটি করে ডিম পেত। নতুন এই নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ৩১ মার্চের মধ্যে চলতি বরাদ্দের অতিরিক্ত আরও ১২টি ডিম দেওয়া হবে প্রতিটি পড়ুয়াকে। এর জন্য মাথাপিছু অতিরিক্ত আট টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে। সরকারি এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষক সংগঠন এবং অভিভাবকেরা। তাঁদের মতে, বাড়ন্ত বয়সে প্রোটিনের জোগান বাড়লে শিশুদের শারীরিক বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে।

তবে এই প্রকল্পের কৃতিত্ব এবং খরচ নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের আবহও তৈরি হয়েছে। শিক্ষা দফতর সূত্রের দাবি, মিড ডে মিলের খরচ কেন্দ্র এবং রাজ্য— উভয়েরই বহন করার কথা। খাবারের মান বজায় রাখতে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য বারংবার কেন্দ্রের কাছে দরবার করেছিল নবান্ন। কিন্তু অভিযোগ, তাতে কর্ণপাত করেনি দিল্লি। ছোট ছোট পড়ুয়াদের পুষ্টি নিয়ে কেন্দ্রের এই টালবাহানার মুখেই নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দের পথে হাঁটল রাজ্য সরকার।

জানা গিয়েছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ‘ফ্লেক্সি ফান্ড’ খাতে বরাদ্দ ৭৫৬২.৫৩ লক্ষ টাকা থেকে যে উদ্বৃত্ত অর্থ ছিল, সেখান থেকেই এই অতিরিক্ত ডিমের খরচ মেটানো হবে। রাজ্যের এই সিদ্ধান্ত কার্যত স্পষ্ট করে দিল যে, কেন্দ্রের সাহায্যের অপেক্ষা না করেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যের স্বার্থে নিজস্ব সম্পদ ব্যবহারেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার।

আরও পড়ুন- বিরোধীদের ‘দিশাহীন’ তকমা ফিরহাদের, উন্নয়নের খতিয়ান পেশ করে পাশ পুরবাজেট

_

_

_

_

_
_

