Wednesday, February 18, 2026

‘মাটির সৃষ্টি’-র প্রশংসা, বাংলার ৩ চালকে রাষ্ট্রসংঘের স্বীকৃতি! আপ্লুত মুখ্য়মন্ত্রী

Date:

Share post:

দুর্গাপুজো, পর্যটনের পরে এবার বাংলার চালেও এলো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। গোবিন্দভোগ-সহ বাংলার তিন ধরনের চালকে (Rice) আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিল রাষ্ট্রসংঘ। তাদের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ‘মাটির সৃষ্টি’ কর্মসূচির মতো সামাজিক উদ্যোগের আন্তর্জাতিক শংসাপত্রও দিয়েছে। বুধবার, এই খবর জানিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নিজের স্যোশাল মিডিয়ায় (Social Media) মমতা লেখেন, এই গৌরব তিনি গ্রামবাংলার সকল মানুষ, বিশেষ করে বাংলার কৃষক ভাই-বোনদের উৎসর্গ করেন।

এদিন নিজের  নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে মমতা লেখেন, “অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, UN আবারও আমাদের একটি পথিকৃৎ উদ্যোগকে স্বীকৃতি দিয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের Food and Agriculture Organization (FAO) আমাদের ‘মাটির সৃষ্টি’ কর্মসূচিকে দিয়েছে এই আন্তর্জাতিকভাবে মূল্যবান স্বীকৃতির শংসাপত্র। আমাদের রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে ২০২০ সালে আমরা যে পথপ্রদর্শক ‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্প শুরু করেছিলাম, তার বিপুল সাফল্যের জন্যই আন্তর্জাতিক স্তরের এই প্রশংসাপত্র।
প্রাকৃতিক ঐতিহ্য এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কার্যকর এই বহুমুখী প্রকল্পটিকে একটি অনন্য জনমুখী উদ্যোগ হিসেবে UN স্বীকৃতি দিল।
‘মাটির সৃষ্টি’ প্রকল্পের মাধ্যমে, এক অনন্য বীক্ষায়, আমরা জমি, সেচ এবং পঞ্চায়েত ব্যবস্থার নানা প্রকরণকে এক সূত্রে গেঁথেছি। আমাদের মূল লক্ষ্য থেকেছে পশ্চিমাঞ্চলের রুক্ষ, অনুর্বর এবং একফসলি জমিকে উর্বর, বহুফসলি, ও বছরভর চাষযোগ্য করে তোলা। সুজলা ও উর্বর এইসব জমিতে এখন শাকসবজির ফলন ও ফলের চাষও হচ্ছে। পুকুর খনন ও অন্যান্য নতুন সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে জলের জোগান নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং গ্রামীণ পরিবারগুলির আয় বহুগুণ বেড়েছে।“

রাষ্ট্রসংঘের এই স্বীকৃতি গ্রামবাংলার মানুষ, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের উৎসর্গ করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। রাষ্ট্রপুঞ্জের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেলের কাছ থেকে পাওয়া শংসাপত্রও স্যোশাল মিডিয়া পোস্টে দেন মমতা। লেখেন, “আমি আনন্দের সঙ্গে আরও জানাচ্ছি যে, UN (FAO) এর পাশাপাশি বাংলার বিখ্যাত সুগন্ধি চাল- গোবিন্দভোগ, তুলাইপাঞ্জি এবং কনকচূড়কে আন্তর্জাতিক ‘খাদ্য ও সংস্কৃতি ঐতিহ্য’ (Food & Culture Heritage) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেলের কাছ থেকে পাওয়া এই শংসাপত্র আমি আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করছি।
প্রাকৃতিক সম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং আমাদের খাদ্য সংস্কৃতি রক্ষার ক্ষেত্রে এইসব আন্তর্জাতিক সম্মান বাংলার কাজের এক বিশাল স্বীকৃতি।
এই গৌরব আমি গ্রামবাংলার সকল মানুষ, বিশেষ করে বাংলার কৃষক ভাই-বোনদের উৎসর্গ করছি।“

গোবিন্দভোগ চালের (Rice) জনপ্রিয়তা নতুন নয়, দেশজুড়েই এই চালের চাহিদা তুঙ্গে। নদিয়া, বর্ধমান, হুগলি, বাঁকুড়া, বীরভূমের মতো জেলাগুলিতে এই চালের চাষ হয়। যদিও তুলাইপাঞ্জি উত্তরবঙ্গের চাল। উত্তর দিনাজপুর এবং চারপাশের এলাকায় এই চালের চাষ হয়। অন্যদিকে কনকচূড় দক্ষিণ ২৪ পরগনায় চাষ হয়। তবে পশ্চিমবঙ্গের সর্বত্রই এই সকল চাল কিনতে পাওয়া যায়। রাষ্ট্রপুঞ্জের তরফে বাংলার বিখ্যাত এই তিন সুগন্ধী চালকে স্বীকৃতি যে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ সেই বিষয়ে সন্দেহ নেই।

spot_img

Related articles

বাখু-খাপচো আর শিঙ্গা নাচে পাহাড়ে বসন্ত, লোসারের রঙে রঙিন শৈলশহর 

ক্যালেন্ডারের পাতায় ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে মার্চের হাতছানি। আর সেই সঙ্গেই পাহাড়ের আনাচে-কানাচে এখন উৎসবের মেজাজ। কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা...

ঢিল মারতেই এল পাটকেল! সায়ক-কাণ্ড টেনে অনন্যাকে বিঁধলেন রাহুল

শহরে সায়ক চক্রবর্তীর (Sayak Chakraborty) সেই ‘গোমাংস কাণ্ড’-র রেশ এখনও ফিকে হয়নি, তার মধ্যেই শুরু নতুন বিতর্ক। এবার...

ঘুরলেন ভিক্টোরিয়া থেকে নিউ মার্কেট, কলকাতায় ইতালীয় খাবারে মুগ্ধ ম্যাডসেন

প্রথমবার আইসিসি টি২০ বিশ্বকাপে খেলতে নেমে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোতে ব্যর্থ হয়েছে ইতালি(Italy)। কিন্ত ভারত থেকে খালি হাতে...

‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনুপ্রেরণা’, কলকাতায় পা রেখে উচ্ছ্বসিত তাপসী

'থাকতে তো হবে এ দেশেই', রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) ছেড়ে নরেন্দ্র মোদীর নাম নিয়ে এমন মন্তব্য কিছুদিন আগেই...