নম্বর প্লেট উল্টাতেই চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের। আড়ালে থাকা গোপন কুঠুরি থেকে উদ্ধার হলো প্রায় ২০ কোটি টাকার মাদক। রবিবার শিলিগুড়ির ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগর থানা এলাকায় এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে অলক কুমার রবিকর নামে এক ব্যক্তিকে। নিজেকে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ-এর ইন্সপেক্টর পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বাহিনীর পরিচয়পত্রও। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বছর দুয়েক আগেও বিহারে মাদক পাচারের অভিযোগে বিএসএফ-এর পরিচয় দিয়েই ধরা পড়েছিল ওই ব্যক্তি।

পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার গোপন সূত্রে খবর আসে যে একটি নীল রঙের চারচাকা গাড়িতে করে বিপুল পরিমাণ মাদক পাচার করা হচ্ছে। সেই খবরের ভিত্তিতেই বিধাননগর থানার পুলিশ মুরালিগঞ্জ চেকপোস্টে ওত পাতে। সন্দেহভাজন গাড়িটি আসতেই সেটিকে আটকানো হয়। গাড়িটিতে বিএসএফ-এর লোগো ও নম্বর প্লেট লাগানো ছিল। কিন্তু তল্লাশি শুরু করতেই পুলিশের নজরে আসে নম্বর প্লেটের অস্বাভাবিক গঠন। প্লেটটি সরাতেই দেখা যায় তার পিছনে অত্যন্ত সুকৌশলে তৈরি করা হয়েছে একটি গোপন চেম্বার। সেই চেম্বার থেকেই উদ্ধার হয় কয়েক কোটি টাকার মাদক।

পুলিশি জেরায় ধৃত অলক জানিয়েছে, সে বিএসএফ-এর ছত্তিশগড় ইউনিটে কর্মরত। বর্তমানে সে মেডিক্যাল লিভে বা চিকিৎসার ছুটিতে রয়েছে। উদ্ধার হওয়া আইকার্ডটি আসল না ভুয়ো, তা খতিয়ে দেখতে বিএসএফ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে পুলিশ। তবে ধৃতের পুরনো অপরাধের খতিয়ান দেখে রীতিমতো অবাক তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের ২০ মার্চ বিহারের কিষাণগঞ্জেও একইভাবে মাদক পাচারের সময় গ্রেফতার হয়েছিল এই অলক। সেই সময়ও সে নিজেকে বিএসএফ-এর উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলে দাবি করেছিল।

কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ফের একই পেশায় কেন এবং কীভাবে সে জড়িয়ে পড়ল, তার পিছনে বড় কোনও আন্তর্জাতিক পাচারচক্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে বিধাননগর থানার পুলিশ। সোমবার ধৃতকে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে। পাচারচক্রের শিকড়ে পৌঁছাতে ধৃতকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।

আরও পড়ুন- ধর্মের বিভাজনের রাজনীতির মধ্যে ব্যতিক্রমী: মহারাষ্ট্রের সৌন্ডালা

_

_

_

_

_
_


