কর্মরত অবস্থায় কোনও রাজ্য সরকারি কর্মীর মৃত্যু হলে তাঁর প্রাপ্য আর্থিক সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কাটাল নবান্ন। অর্থ দফতরের পেনশন শাখা থেকে জারি করা এক সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এবার থেকে মৃত কর্মীর ‘পরিবার’-এর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হলো বিবাহিত ও বিবাহবিচ্ছিন্ন কন্যাদেরও। অর্থাৎ, বাবার বা মায়ের মৃত্যুর পর তাঁদের বকেয়া পেনশনারি বেনিফিট বা গ্র্যাচুইটির টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে আর কোনও বাধা রইল না তাঁদের।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাজ্য সরকারের তরফে পশ্চিমবঙ্গ পরিষেবা (মৃত্যু–সহ অবসর সুবিধা) বিধি, ১৯৭১ সংশোধন করে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতদিন পর্যন্ত নিয়ম ছিল, কোনও কর্মী অবসরের আগে মারা গেলে তাঁর স্ত্রী বা স্বামী, পুত্র, অবিবাহিত বা বিধবা কন্যা, বাবা-মা এবং নাবালক ভাই বা অবিবাহিত বোনেরাই কেবল সেই অর্থ পাওয়ার দাবিদার হতেন। বিবাহিত বা বিবাহবিচ্ছিন্ন কন্যারা এই তালিকার বাইরে ছিলেন। ফলে অনেক ক্ষেত্রে মৃত কর্মীর একমাত্র সন্তান বিবাহিত কন্যা হওয়া সত্ত্বেও আইনি গেরোয় সেই টাকা সরকারি কোষাগারে থেকে যেত।

নবান্নের এক শীর্ষকর্তার কথায়, পরিবর্তিত সামাজিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই এই মানবিক সিদ্ধান্ত। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সরকারি কর্মীর মৃত্যুর পর তাঁর নিকটাত্মীয় বলতে কেবল বিবাহিত বা বিবাহবিচ্ছিন্ন কন্যাই রয়েছেন। স্রেফ নিয়মের কারণে তাঁরা এতদিন বঞ্চিত হতেন। নতুন এই সংশোধনের ফলে সেই বঞ্চনার অবসান ঘটল। শুধু তাই নয়, বিজ্ঞপ্তিতে এও জানানো হয়েছে যে, এই সংশোধনের আগে যেসব ক্ষেত্রে বিবাহিত বা বিবাহবিচ্ছিন্ন কন্যাদের আবেদন ঝুলে ছিল, সেগুলিও এখন নতুন নিয়মের ভিত্তিতে বিবেচনা করতে পারবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলি। তাঁদের মতে, এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং সহানুভূতিশীল। বিশেষ করে বিবাহবিচ্ছিন্ন কন্যারা যারা অনেক সময় সামাজিক ও আর্থিক ভাবে অসহায় অবস্থায় থাকেন, তাঁদের জন্য এই নতুন নিয়ম বড়সড় আর্থিক রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে। প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছেন, উত্তরাধিকার সংক্রান্ত অধিকারে লিঙ্গবৈষম্য দূর করার পথে এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ।

আরও পড়ুন- ফের বিদেশে ভারতের প্রতিনিধিত্ব সাংসদ অভিষেকের, একটি সংসদীয় দলের নেতৃত্বে লোকসভার দলনেতা

_

_
_

_
_

_


