শহর ও শহরতলির মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ নতুন মাইল ফলক হিসাবে গড়ে উঠেছে ঝাঁ চকচকে চার লেনের কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে (Kalyani Expressway)। চার লেনের কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। ২ মার্চ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ৪৪.২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তার উদ্বোধন করতে চলেছেন। এই প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ২,৫০০ কোটি টাকা। সোমবার দোলযাত্রার আগের দিন, কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে দোল ও হোলি মিলন উৎসবের আযোজন করেছে রাজ্য সরকার। সেখান থেকেই ভার্চুয়াল মাধ্যমে নবরূপে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী।

বেলঘরিয়া-কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে সংযোগস্থল থেকে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে জংশন থেকে কাঁচরাপাড়ার কাঁপা মোড় হয়ে বড় জাগুলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এই রাস্তায় যাতায়াত করতে সময় লাগবে মাত্র ৪০ মিনিট। গোটা পথে একটিও ট্র্যাফিক সিগনালে দাঁড়াতে হবে না বলে দাবি প্রশাসনের। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে তৈরি হয়েছে এলিভেটেড করিডর বা আন্ডারপাস। ফলে দ্বিমুখী এই এক্সপ্রেসওয়েতে কোথাও বাধা পড়বে না যান চলাচলে। পশ্চিমবঙ্গ সড়ক উন্নয়ন কর্পোরেশন সূত্রে জানা গিয়েছে, উন্নত সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা মাথায় রেখেই তৈরি হয়েছে এই প্রকল্প। মূল এক্সপ্রেসওয়ের দু’ধারে রয়েছে স্থানীয় যানবাহন ও পথচারীদের জন্য সার্ভিস রোড ও স্লিপ রোড। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে দক্ষিণেশ্বরমুখী বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে ধরে এলিভেটেড করিডর দিয়ে সরাসরি কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠা যাবে। সেখান থেকে মাত্র ৪০ মিনিটে হুগলি নদীর উপর ঈশ্বর গুপ্ত সেতু পেরিয়ে বাঁশবেড়িয়ার কাছে জাতীয় সড়ক ১২ এবং রাজ্য সড়ক ৬ ধরে উত্তরবঙ্গের দিকে যাওয়া সম্ভব হবে। আরও পড়ুন: তফশিলি অধ্যুষিত এলাকায় স্মার্ট ক্লাসরুম চালু রাজ্যের

নবনির্মিত এই এক্সপ্রেসওয়েতে রয়েছে চারটি বড় উড়ালপুল, সাতটি বড় আন্ডারপাস ও ছ’টি ছোট আন্ডারপাস। পাশাপাশি তৈরি হয়েছে ৭০টি ছোট ও মাঝারি কালভার্ট, একটি ট্রাক লে-বাই এবং ৫৬টি যাত্রী প্রতীক্ষালয়। গাড়িচালক ও যাত্রীদের সুবিধার কথা ভেবে পাঁচটি আধুনিক শৌচালয়ও নির্মাণ করা হয়েছে। রাজ্য পূর্ত দফতরের দাবি, নতুন কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ে কার্যত যশোর রোড ও বিটি রোডের বিকল্প পথ হিসেবে কাজ করবে। দমদম বিমানবন্দর থেকে উত্তরবঙ্গমুখী যানবাহন এ বার সহজেই কোনও বাধা ছাড়াই এই রাস্তা ব্যবহার করতে পারবে। একদিকে কলকাতা বিমানবন্দর, অন্যদিকে কল্যাণীর এইমস—দুই প্রান্তকে দ্রুত সংযোগের আওতায় আনবে এই করিডর। শুধু দূরপাল্লার যান নয়, উত্তর শহরতলির বেলঘরিয়া, সোদপুর, ব্যারাকপুর, নৈহাটি, কাঁচরাপাড়া, বারাসত, মধ্যমগ্রাম ও কল্যাণীতে পৌঁছনোর ক্ষেত্রেও এটি হবে দ্রুত ও বিকল্প সংযোগপথ—এমনটাই দাবি প্রশাসনের।

–

–

–

–

–

–

–


