আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তপ্ত পাহাড়। ভোটার তালিকা থেকে বহু গোর্খা বাসিন্দার নাম বাদ পড়া এবং হাজার হাজার নাম ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিবেচনাধীন তালিকায় রাখা নিয়ে বিজেপি সাংসদ ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার দার্জিলিং শহরজুড়ে বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তার বিরুদ্ধে নেপালি ভাষায় লেখা অসংখ্য পোস্টার দেখা যায়।

শহরের বিভিন্ন মোড়ে সাঁটানো এই পোস্টারগুলিতে সরাসরি সাংসদ রাজু বিস্তাকে নিশানা করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের প্রশ্ন, “পাহাড়ের সরল মানুষের ভোট নিয়ে কেন তাঁদের ভিটমাটি হারানোর জোগাড় করা হচ্ছে?” পোস্টারে দাবি করা হয়েছে যে, প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি পাহাড়বাসীর নাম বর্তমানে বিবেচনাধীন তালিকায় রয়েছে। এই চরম অনিশ্চয়তার মুহূর্তে সাংসদ কেন নীরব, সেই প্রশ্ন তুলে ‘রাজু বিস্তা মুর্দাবাদ’ ও ‘বিজেপি মুর্দাবাদ’ স্লোগান লেখা পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছে শৈলশহর।

ভোটার তালিকায় এই অসঙ্গতি ধরা পড়ার পর থেকেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কার্শিয়াং ও দার্জিলিংয়ের বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কার্শিয়াংয়ের বিডিও অফিসে কয়েকশ মানুষ ভিড় করেন। নিজেদের নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করতে বিডিও এবং এসডিও-র সঙ্গে দেখা করে সমস্যার কথা জানান তাঁরা। একই চিত্র দেখা গিয়েছে দার্জিলিংয়ের জেলাশাসক দফতরেও। কয়েকজন বাসিন্দা সরাসরি সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করে দ্রুত সমাধানের দাবি জানান। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, পাহাড়ের মানুষের আবেগকে ব্যবহার করে বিজেপি ভোট নিলেও সংকটের সময় তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না। তাঁদের আশঙ্কা, এই তালিকায় নাম না থাকার অর্থ হলো ভিটেমাটি হারানোর ভয়। নির্বাচনের আগে এই বিশাল সংখ্যক ভোটারের নাম ঝুলিয়ে রাখা এক গভীর ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন পাহাড়ের রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত বিজেপি বা সাংসদ রাজু বিস্তার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে নির্বাচনের আগে এই ‘ভোটার তালিকা’ ইস্যু যে পাহাড়ের রাজনীতিতে বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

আরও পড়ুন- খামেনেই-র মৃত্যুতে অবশেষে নীরবতা ভাঙল ভারত! ইরানি দূতাবাসে শোকবার্তা বিদেশ সচিবের

_

_
_

_
_

_
_


