মুখ্যসচিব পদে মনোজ আগরওয়াল! স্বল্প মেয়াদে নতুন পদ নিয়ে জল্পনা

Date:

Share post:

রাজ্যে নতুন সরকারের শপথ শনিবার। একদিকে যখন রাজনৈতিক পালাবদল, তখনই প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও পালাবদলের সম্ভাবনা রাজ্য জুড়ে। ইতিমধ্যেই ফলতা ছাড়া রাজ্যের সর্বত্র আদর্শ আচরণবিধি (MCC) উঠে গিয়েছে। কমিশনের বসানো প্রশাসনিক ও পুলিশ আধিকারিক পদেরও বদল হওয়ার ইঙ্গিত এবার। আর সেই পদক্ষেপে এবার মুখ্যসচিব (Chief Secretary) পদে বদলের ইঙ্গিত। সেই পদে বর্তমান মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে (CEO Manoj Agarwal) নিয়ে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

১৯৯০ ব্যাচের আইএএস অফিসার মনোজ কুমার আগরওয়াল নতুন সরকারের পছন্দের তালিকায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন। উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা এবং আইআইটি কানপুরের প্রাক্তনী মনোজবাবু বর্তমানে রাজ্যের অন্যতম অভিজ্ঞ আমলা। তাঁর ব্যাচের বেশ কয়েক জন অফিসার অবসর নিলেও এখনও প্রশাসনিক সক্রিয়তায় এবং দায়িত্ব পালনের নিরিখে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবেই পরিচিত।

প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট পরিচালনা তাঁর প্রশাসনিক গ্রহণযোগ্যতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ECI) অধীনে থেকে রাজ্যে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও ভোট ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সামলানোয় তাঁর ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিজেপি নেতৃত্বের একাংশও এই নির্বাচনকে “স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ” হিসেবে তুলে ধরেছে। ফলে সেই সাফল্যের ‘পুরস্কার’ হিসেবেই মুখ্যসচিব পদে মনোজবাবুর (CEO Manoj Agarwal) নাম সামনে আসছে বলে জল্পনা।

আগামী ৩১ জুলাই অবসর নেওয়ার কথা মনোজ কুমার আগরওয়ালের। তার আগে প্রায় আড়াই মাসের জন্য তাঁকে মুখ্যসচিব করা হতে পারে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত। প্রয়োজনে তাঁর মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়েও আলোচনা হতে পারে। বৃহস্পতিবার বর্তমান মুখ্যসচিব দুষ্যন্ত নারিয়ালার (Dushyant Nariala) সিইও দফতরে গিয়ে মনোজবাবুর (CEO Manoj Agarwal) সঙ্গে সাক্ষাৎ করাও প্রশাসনিক মহলে জল্পনা আরও বাড়িয়েছে।

আরও পড়ুন : ভোটে রেকর্ড: পাঁচ রাজ্যের মধ্যে ১৫১ কোটি টাকার মদ বাজেয়াপ্ত বাংলায়!

দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন মনোজবাবু। ২০০১ সালে বর্ধমানের জেলাশাসক হিসেবে পশ্চিমবঙ্গে তাঁর প্রশাসনিক যাত্রা শুরু। পরে রাজ্য হাইওয়ে কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান, প্রশাসন ও কর্মিবর্গ দফতরের প্রধান সচিব, খাদ্য দফতরের প্রধান সচিব, দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব এবং বন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি রাজ্যের আইএএস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিও।

spot_img

Related articles

লাল থেকে গেরুয়া! ভোল বদল রাইটার্স বিল্ডিংয়ের

রাজ্যে পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে রাজ্যের এক এক ঐতিহ্যবাহী এলাকা বদলে ফেলছে বিজেপির প্রশাসন, তার আরও এক নজির...

পরলোকে প্রিয় পোষ্য, ‘লাকি’র জন্য বিশেষ পুজো দেবের

প্রিয় পোষ্য আর নেই। সোমবার সারমেয় 'লাকি'র চলে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন অভিনেতা দেব (Dev)। শুক্রবার তার জন্য বাড়িতে...

শনিবার রবীন্দ্র জয়ন্তী পালন: মমতার বাড়ির চত্বরেই অনুষ্ঠান

বাংলার ক্ষমতায় আসার পরই বিজেপির ক্ষমতা প্রয়োগের রাজনীতি শুরু। বাংলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নিয়ে রাজনীতির আসরে প্রশাসন। তাই অরাজনৈতিক...

শিক্ষকের চাকরি চেয়ে জুটল লাঠি: বিহারে বিজেপি সরকারের সমালোচনায় মন্ত্রী চিরাগ!

একদিকে বাংলায় প্রথম বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী থেকে ভাবী মুখ্যমন্ত্রী দাবি করছেন রাজ্যে বেকারদের চাকরি হবে। অন্যদিকে...