Monday, March 9, 2026

রাষ্ট্রপতিকে দাঁড় করিয়ে রেখে অসম্মান! প্রধানমন্ত্রীকে সংবিধান প্রশ্নে জবাব মুখ্যমন্ত্রীর

Date:

Share post:

যে রাজ্য় থেকে প্রথম দ্রৌপদী মুর্মুকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনিত করার প্রস্তাব গিয়েছিল, সেখানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে নিয়ে রাজনীতি খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi)। যে অনুষ্ঠানে রাজ্যের কোনও আমন্ত্রণ ছিল না, সেখানে সংবিধান অবমাননা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মোদি। সেই সঙ্গে মহিলা রাষ্ট্রপতির অবমাননার প্রশ্নও তুলেছেন। পাল্টা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে (Draupadi Murmu) দাঁড় করিয়ে রেখে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির চেয়ারে বসে থেকে রাষ্ট্রপতির (President of India) চেয়ারকে কীভাবে অবমাননা করেছেন মোদি, মেট্রো চ্যানেলের ধর্না মঞ্চ (dharna mancha) থেকে সেই ছবি তুলে দ্বিচারিতার মুখোশ খুললেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সেই সঙ্গে স্পষ্ট করে দিলেন বাংলার প্রশাসন কোনও ধরনের প্রোটোকল ভাঙেনি।

শনিবার শিলিগুড়ি থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর কর্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। পাল্টা মুখ্যমন্ত্রী ধর্মতলার মঞ্চ থেকে জানিয়ে দিয়েছিলেন সেই অনুষ্ঠানে তাঁকে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি। তখন নিজেদের পক্ষকে জোরালো করতে রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে লোক কম হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। কিন্তু আয়োজন যেখানে রাজ্যের প্রশাসনের নয়, রাষ্ট্রপতির দফতর যে অনুমতি দিয়েছে, সেই চিঠি মুখ্যমন্ত্রী তুলে ধরতেই কার্যত উত্তর হাতড়েছে বিজেপি। সেখানেই সংবিধান নিয়ে সাধারণ মানুষকে বাংলা সম্পর্কে ভুল বোঝাতে মাঠে নেমেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দিল্লি থেকে তিনি দাবি করেন, আদিবাসী রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেছে তৃণমূল। তৃণমূল একজন মহিলা, একজন আদিবাসী ও দেশের রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেছে। বাংলার তৃণমূলের সরকার শুধুমাত্র একজন মহিলা রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেনি, দেশের সংবিধানেরও (Constitution of India) অপমান করেছে।

প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister) নিজে যেখানে রাষ্ট্রপতি তো দূরের কথা, আদিবাসী সম্প্রদায় বা মহিলাদের সম্মান করতে পারেন না, সেই নরেন্দ্র মোদি যখন এমন প্রশ্ন তোলেন, তখন তাঁর মুখোশ খুলে দিতেও দ্বিধা করেন তৃণমূল তথা সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলা থেকে মমতা তুলে ধরেন, দেখুন আপনারা। যারা বলছেন, বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীজি এটা আপনার জন্য। আপনি মাননীয় রাষ্ট্রপতি একজন মহিলা এবং আদিবাসী মহিলা। তাঁকে সম্মান দেন? তাহলে বলুন কেন রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আছেন, এবং আপনি বসে আছেন? আমরা কিন্তু আপনাদের সম্মান দিই। কিন্তু আপনারা দেন না। সম্মান কারা দেয় আর কারা দিতে পারে না, এই ছবিটাই প্রমাণ করে দেবে।

আদতে বাংলা বিরোধী বিজেপি যে নির্বাচনের মুখে যে কোনও প্রকারে বাংলাকে অসম্মান করার পথে নেমেছে, তাও স্পষ্ট করে দেন তিনি। জানান, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন আসলে ভোটপাখির মতো বাংলাকে আক্রমণ করেন। কাল আপনি টুইট করেছিলেন। আপনার টুইটের জবাব আমি দিয়েছি।

সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী যে যে অভিযোগ তুলেছেন, তার প্রত্যেকটির জবাবও দিয়েছেন। তিনি জানান, আয়োজন ছিল বেসরকারি সংস্থা। জায়গাটি এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (Airport Authority of India)। এটা তাদের এক্তিয়ার ছিল। গ্রিনরুম তাদের ছিল। এটা তাদের পছন্দ ছিল, আমাদের এলাকাও না সেটা। আমাদের দোষ দেবেন না। গ্রিনরুম আয়োজনের দায়িত্বে ছিল বেসরকারি সংস্থা। যদি কোনও দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে তবে তাদের ব্যর্থতা। বাকি সরকারিভাবে যে উত্তর ছিল তা আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছি। এটা তাঁদের ব্যক্তিগত পছন্দ ছিল। আমরা বলতে পারি না আসবেন না, কারণ ওখানে মানুষ আসবে না। কারণ ওই সংগঠনের সক্ষমতা ছিল না। তার জন্য আমাদের দোষ দিচ্ছেন?

প্রধানমন্ত্রীর সংবিধানকে নিয়ে তোলা প্রশ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সরাসরি জবাব, আমরা সংবিধানকে সম্মান করি। সংবিধান আমাদের মা। আমরা চেয়ারকে পূর্ণ সম্মান করি। কারণ আমরা সংবিধানকে সম্মান করি। শুধুমাত্র নির্বাচন আসছে বলে আপনারা বাংলা সম্পর্কে যা খুশি তাই বলতে পারেন? কারণ আপনারা বাংলাকে টার্গেট বানিয়েছেন।

আরও পড়ুন : দ্রৌপদী মুর্মুর নাম রাষ্ট্রপতি হিসাবে প্রথম উত্থাপন তৃণমূলেরই: বিজেপির মিথ্যাচারের পর্দাফাঁস কুণালের

যে নারীর অপমানের প্রশ্ন মোদি তুলেছেন, তার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর তুলে ধরা ছবিই ছিল যথেষ্ট। যেখানে দেখা যায় প্রবীন বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদবানির (Lal Krishna Advani) সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আর সেখানেই মুখোমুখি চেয়ারে বসে মোদি কথা বলছেন আদবানির সঙ্গে। আর আদবানির পিছনে দাঁড়িয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সেখানেই মমতার (Mamata Banerjee) প্রশ্ন, একজন রাষ্ট্রপতি (President of India) দাঁড়িয়ে রয়েছেন, আর প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister) বসে রয়েছেন! আমরা কখনও এটা করি না। একজনও মহিলা এলে আমরা তাঁর সম্মানের জন্য উঠে দাঁড়াই। এখন আপনি বলছেন, আমরা সম্মান দিই না? আমাদের মেয়র উপস্থিত ছিলেন সেখানে। আমি ধর্নায় ছিলাম। আমি সেই জায়গা ছাড়ব কী করে। আপনার অনুষ্ঠান সম্পর্কে আমি অবগত ছিলাম না। আমি কী করে আমার রাজ্যের মানুষের পাশ থেকে সরে যেতাম? এটাই প্রমাণ। আমি শুধু দেখালাম।

spot_img

Related articles

কালীঘাটে পুজো দিতে জ্ঞানেশ কুমার: শুনলেন ‘জবাব চাই’ স্লোগান

প্রবল ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা বাংলা। বৈধ নাগরিকেরা এখনও নিশ্চিত নন তাঁরা বিধানসভা নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন কিনা। এই...

চতুর্থ দিনে ধর্না: বৈঠকের মধ্যেই কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হবেন মমতা

বৈধ ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকার কিভাবে কেড়ে নিচ্ছে কেন্দ্রের সরকারের দ্বারা পরিচালিত নির্বাচন কমিশন, মেট্রো চ্যানেলের ধর্না মঞ্চ থেকে...

কোন পথে হাদির খুনিরা ভারতে: রাজ্য পুলিশের তৎপরতায় ফাঁস স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ব্যর্থতা

প্রতিবেশী দেশে নির্বাচন শেষ। বাংলায় নির্বাচনের প্রস্তুতি গত পাঁচ মাস ধরে চলছে। এই পরিস্থিতিতে বারবার বাংলা-বাংলাদেশ সীমান্তে কড়া...

আজকের দিনটি কেমন যাবে? জেনে নিন ১২ রাশির ভবিষ্যৎ

আজকের দিনে গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থান বিভিন্ন রাশির জাতকদের জীবনে ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ফেলতে পারে। কারও কর্মক্ষেত্রে উন্নতির সম্ভাবনা, আবার...