ভোটের (Vote) প্রস্তুতি দেখতে বাংলায় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) ফুল বেঞ্চ। ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রয়েছেন নিউটাউনের (New Town) সেই West in হোটেলে যেখানে এসে থাকেন অমিত শাহ থেকে শুরু করে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। মঙ্গলবার, সেই ওয়েস্ট ইন হোটেলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (Chief Election Commissioner) জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar)। বাইরে বৈধ ভোটারের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার প্রতিবাদে এবং দ্রুত ত্রুটিমুক্ত চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দাবিতে বিক্ষোভ দেখায় বাংলা পক্ষ। ‘বাঙালির ভোটাধিকার হরণের চক্রান্তকারী’ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশ্যে কালো পতাকা দেখানো হয়।

৬০ লক্ষ ভোটারের ভোটদানের অধিকার এখনও বিচারাধীন। তাঁরা ভোট দিতে পারবেন কি না নিশ্চিত নয়। এছাড়াও বেশ কয়েক লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম SIR এর ফলে ডিলিট হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় বাংলা এসেছে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে ও দ্রুত ত্রুটিমুক্ত চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দাবিতে এদিন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের (Chief Election Commissioner) উদ্দেশ্যে কালো পতাকা দেখায় বাংলা পক্ষ। ওয়েস্ট ইনের সামনে জ্ঞানেশ কুমারকে SIR প্রক্রিয়ার চাপে মৃত প্রায় ১৬০ জনের মৃত্যুর জন্য দায়ী করে পোস্টারে লিখে বিক্ষোভ দেখানো হয়। বিক্ষোভ সমাবেশে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক গর্গ চট্টোপাধ্যায়, শীর্ষ পরিষদ সদস্য তথা সাংগঠনিক সম্পাদক কৌশিক মাইতি। এছাড়াও পশ্চিম বর্ধমানের জেলা সম্পাদক অক্ষয় বন্দ্যোপাধ্যায়, উত্তর ২৪ পরগণা (শহরাঞ্চল) জেলার সম্পাদক পিন্টু রায়, উত্তর ২৪ পরগণা (গ্রামীণ) সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক দেবাশীষ মজুমদার, দক্ষিণ ২৪ পরগনার সম্পাদক কুশনাভ মণ্ডল-সহ অভিজিৎ দে, হুমায়ুন মোল্লা, সৌগত মজুমদারের মত বিশিষ্ট নেতৃত্ব আজকের বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন।

গর্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “লক্ষ লক্ষ বাঙালির ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে যদি নির্বাচন করা হয়, তাহলে তা প্রহসনে পরিণত হবে। বৈধ নাগরিক যদি ভোট দিতে না পারে, তাহলে সেই নির্বাচন বৈধ হতে পারে না। স্বাধীনতার আগের দলিল, সব প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট এমনকী পাসপোর্ট থাকার পরও ভোটার তালিকায় নাম ওঠেনি আগণিত বৈধ বাঙালির। এটা বাঙালি জাতির বিরুদ্ধে হিন্দি সাম্রজ্যবাদী বিজেপির সুগভীর চক্রান্ত। সেই চক্রান্ত বাস্তবায়নের কাজ করছে জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন, যা বর্তমানে বিজেপির দলীয় এজেন্ডা পূরণের লক্ষ্যে কাজ করছে। রাজনৈতিক ভাবে অনুগত নির্বাচন কমিশন তৈরীর জন্য আইন বদল করা হয়েছিল, বর্তমান কমিশন প্রধানমন্ত্রী মোদি তথা বিজেপির অনুগত। বাংলা পক্ষ বাঙালির উপর এই সার্বিক আক্রমণের বিরুদ্ধে পথে আছে। নির্বাচনের আগে সকল বৈধ ভোটারের ভোটাধিকার ফিরিয়ে নিয়ে ত্রুটিমুক্ত ভোটারতালিকা প্রকাশ করতে হবে।”

কৌশিক মাইতি তথ্য সহ তুলে ধরলেন, “মুসলমান বাঙালির নাম বেশি ঝুলে আছে, এবং সাথে অগণিত ঘটি ও উদ্বাস্তু হিন্দু এমনকি আদিবাসীদের নামও ভোটার তালিকা থেকে নাম ডিলিট হয়েছে। এটা সার্বিক ভাবেই বাঙালি জাতির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশে বিচারকরা স্ক্রুটিনির কাজ করছেন, কিন্তু তার গতি খুব বেশী নয়। আমরা দাবি জানাই দ্রুত সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করতে হবে। সমস্ত under adjudication নামের সমাধান দ্রুত করতে হবে। একজন বৈধ ভোটারকে বাদ রাখা যাবে না।”

তিনি উদ্বাস্তু হিন্দু মূলত মতুয়াদের উদ্দেশ্যে বলেন, “CAA এর মাধ্যমে নাগরিকত্বের গল্প শুনিয়ে আজ তাদের ভোটাধিকারটাই কেড়ে নিয়েছে বিজেপি। আশা করি মতুয়া ভাইবোনরা বিজেপির স্বরূপ বুঝতে পারছে। বিজেপি বাঙালি উদ্বাস্তুর বন্ধু নয়।”

SIR এর কারণে ১৬০ জন বাঙালি খুন হয়েছে, কয়েক লাখ বৈধ বাঙালির নাম ডিলিট করা হয়েছে, ৬০ লাখ বৈধ বাঙালির নাম ঝুলে আছে- এই অবস্থায় জ্ঞানেশ কুমার কলকাতা এসে এয়ারপোর্টে সেলিব্রিটিদের মতো যেভাবে হাত নাড়িয়েছেন, তা লজ্জাজনক। এই কথা বারবার উঠে আসে বিক্ষোভ চলাকালীন।

মা কালী সন্তানদের নাম যেভাবে বাদ দিয়েছে জ্ঞানেশ কুমার, তাতে মা কালীর কখনই এই পাপীর পুজো নেবেন না।

–

–

–

