জ্বালানি সংকট কাটাতে হিমসিম কেন্দ্রের মোদি সরকার। টানা তিন দিন গোটা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিঃশেষ বাণিজ্যিক গ্যাস। ঘরোয়া গ্যাসের জন্য আবার লাইনে দেশের সাধারণ মানুষ। সেই পরিস্থিতিতে অবশেষে সাংবাদিক বৈঠক করে তথ্য পেশ করে দায় সারার চেষ্টা কেন্দ্রের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের (Ministry of Petroleum and Natural Gas)। দাবি করা হল, যে প্রক্রিয়ায় ভারতে ঘরোয়া গ্যাসের (domestic gas) সরবরাহর চলছে তা অত্যন্ত স্বাভাবিক। তাতে গ্যাস বুকিংয়ের (gas booking) আড়াই দিনের মধ্যে বাড়িতে গ্যাস পৌঁছে যাওয়া সম্ভব।

প্রাকৃতিক গ্যাসের কারণে এলপিজি (LPG) সরবরাহে সমস্যার জেরে সংসদে বারবার কেন্দ্রের সরকারের অবস্থান ও আলোচনা দাবি করেছে বিরোধী সাংসদরা। কিন্তু সেই পথে না গিয়ে সাফাইয়ের ভঙ্গিতে সাংবাদিক বৈঠক করে দায় সারল মোদি সরকার। যে সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারলেন না মন্ত্রী নিজেও। বুধবার সেই সাংবাদিক বৈঠক থেকে দাবি করা হয়, ভারতের সামগ্রিক প্রাকৃতিক গ্যাসের ৬০ শতাংশ আমদানি করা হয়। তার মধ্যে ৯০ শতাংশ আসে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে। সেই সঙ্গে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যে সেই সব সরবরাহ বন্ধ রয়েছে, তা স্পষ্ট কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের জয়েন্ট সেক্রেটারির বক্তব্যে।

চলতি অস্থিরতার মধ্যে বিভিন্ন উপাদান থেকে এলপিজি তৈরিতে ছাড় দিয়েছে কেন্দ্র। ফলে সামগ্রিকভাবে ২৫ শতাংশ এলপিজি উৎপাদন বেড়েছে বলেও দাবি করেন জয়েন্ট সেক্রেটারি। যদিও তার প্রতিফলন দেশের সাধারণ মানুষের জীবনে যে পড়েনি, তা স্পষ্ট বুধবারও। যদিও তিনি দাবি করেন, গ্যাস সরবরাহকারী থেকে সঠিক স্থানে গ্যাস পৌঁছানোর জন্য ডেলিভারি অথেন্টিকেশন সিস্টেম চালু করা হয়েছে। ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ার কারণে মানুষের মধ্যে প্যানিক বুকিংয়ের প্রবণতা হয়েছে। স্বাভাবিক নিয়মে গ্যাস বুকিংয়ের (LPG booking) আড়াই দিনে বাড়িতে গ্যাস পৌঁছে যাবে, দাবি জয়েন্ট সেক্রেটারির।

এলপিজি নিয়ে নিশ্চয়তা দেওয়ার পাশাপাশি জ্বালানি তেল (crude oil) নিয়েও নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। জানানো হয়, ৪০ টি দেশ থেকে এই তেল আমদানি হয়। দেশের দৈনিক আমদানি ৫৫ লক্ষ ব্যারেল। এই ৪০ দেশ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে হওয়ায় সেই সরবরাহ অনেকাংশে অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যেই মোট চাহিদার ৭০ শতাংশ ভারতের পথে রওনা দিয়েছে।

আরও পড়ুন : রান্নার গ্যাসে টান, ভক্তদের জন্য ভোগ বিতরণ বন্ধ তমলুকের বর্গভীমা মন্দিরে

যদিও হরমুজ প্রণালীতে যে অস্থিরতা, তাতে এখনও ভারতের নাবিকদের নিয়ে কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারল না কেন্দ্রের জাহাজ মন্ত্রক বা বিদেশ মন্ত্রক। জাহাজ মন্ত্রকের তরফে জানানো হল, হরমুজ প্রণালীতে আটকে রয়েছে ২৮টি ভারতের জাহাজ। তার মধ্যে পশ্চিম হরমুজে আটকে ২৪টি জাহাজ। সেখানে রয়েছে ৬৭৭ ভারতীয় নাবিক। অন্যদিকে পূর্ব হরমুজে আটে ৪ জাহাজ। সেগুলিতে আটকে রয়েছেন ১০১ জন নাবিক। সর্বমোট ৮৭৮ ভারতীয় নাবিকের জীবন সংকট রয়েছে। ইতিমধ্যেই দুই ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু ও একজনের নিখোঁজ থাকার খবরও নিশ্চিত করা হয় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে।


