Friday, March 13, 2026

বিধানসভা ভোটে নজিরবিহীন নজরদারি: কয়েক গুণ বাড়ছে পর্যবেক্ষক, থাকছে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা

Date:

Share post:

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে কোমর বাঁধছে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের প্রতিটি বুথে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবার নজরদারি ব্যবস্থাকে এক ধাক্কায় কয়েক গুণ শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, সাধারণ ও পুলিশ পর্যবেক্ষকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি, প্রযুক্তির মেলবন্ধনে ভোট প্রক্রিয়ায় ‘ওয়েবকাস্টিং’ ব্যবস্থাতেও আনা হচ্ছে আমূল পরিবর্তন।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে মোট ১৬২ জন সাধারণ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছিল। তবে এবার কমিশনের লক্ষ্য— রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রত্যেকটির জন্য আলাদা করে একজন করে সাধারণ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা। অর্থাৎ, প্রতিটি কেন্দ্রেই কমিশনের নিজস্ব প্রতিনিধি সরাসরি নজরদারি চালাবেন। একইভাবে বাড়ছে পুলিশ পর্যবেক্ষকের সংখ্যাও। গত নির্বাচনে যেখানে গোটা রাজ্যে মাত্র ৩৭ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক ছিলেন, এবার সেই সংখ্যা দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। তবে ব্যয় পর্যবেক্ষকের (Expenditure Observer) সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে আপাতত কোনও নতুন প্রস্তাব নেই।

ভোটের দিন বুথের ভেতর বা বাইরে কোনওরকম অশান্তি বা কারচুপি রুখতে ‘ওয়েবকাস্টিং’ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। রাজ্যের প্রায় প্রতিটি বুথ থেকেই ভোটগ্রহণের ছবি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। কেবল বুথের ভেতর নয়, এবার বুথের বাইরে কী ঘটছে তাও সরাসরি দেখতে পাবেন নির্বাচনী আধিকারিকরা। ভ্রাম্যমাণ গাড়িতে ৩৬০ ডিগ্রি ঘোরানো যায় এমন অত্যাধুনিক ক্যামেরা বসিয়ে গোটা এলাকা টহল দেবে কমিশন।

উল্লেখ্য, কালিয়াগঞ্জের উপনির্বাচনে পরীক্ষামূলকভাবে এই অত্যাধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। সেখানে সাফল্যের পর এবার তা রাজ্যজুড়ে কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সল্টলেকের সিইও দফতরে বসেই ভোট কর্তারা মুহূর্তের মধ্যে যে কোনো বুথের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

আরও পড়ুন- বাংলার জনজাতি উন্নয়নকে উপেক্ষা করে কেন আক্রমণ? রাষ্ট্রপতির কাছেই উত্তর চায় তৃণমূল 

_

_

_

_

_

_

spot_img

Related articles

উন্নয়নের খতিয়ান দিতে গিয়েও ‘না’! চেয়েও রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেল না তৃণমূল

রাজ্যের আদিবাসী ও জনজাতি উন্নয়নে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘রিপোর্ট কার্ড’ পেশ করতে চেয়েও রাষ্ট্রপতির দেখা পেলেন না তৃণমূল সাংসদেরা।...

বাংলার জনজাতি উন্নয়নকে উপেক্ষা করে কেন আক্রমণ? রাষ্ট্রপতির কাছেই উত্তর চায় তৃণমূল 

গত তিন দশকের বাম আমলের অচলাবস্থা কাটিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় বাংলার আদিবাসী ও অনগ্রসর জনজাতিদের উন্নয়ন আজ এক...

“বার অ্যাসোসিয়েশন কি মানুষের স্বার্থে মামলা লড়ে?” হাইকোর্টে প্রশ্ন তুলে বিরোধীদের নিশানা কল্যাণের

দীর্ঘ ১১ মাসের আইনি লড়াই ও টানাপড়েন শেষে এসএলএসটি নিয়োগ সংক্রান্ত আদালত অবমাননা মামলার শুনানি শেষ হল কলকাতা...

কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী: গঠিত হলো পশ্চিমবঙ্গ ব্যবসায়ী কল্যাণ বোর্ড

রাজ্যের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্যবসায়ী মহলের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করল রাজ্য সরকার। ডিসেম্বর ২০২৫-এ আয়োজিত রাজ্য ব্যবসায়ী...