পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের (Iran Israel War Impact) জেরে রান্নার গ্যাসের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। এই আবহে সিলিন্ডার (LPG Price Hike) প্রতি ৬০ টাকা করে দাম বাড়িয়েছে কেন্দ্র সরকার। বুকিং-এর মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। যার ফলে সারা দেশে আতঙ্কের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। একের পর এক বন্ধ হচ্ছে রেস্তরাঁ। কমানো হচ্ছে মন্দিরে মন্দিরে ভোগের প্রসাদ। তবে যথেষ্ট পরিমানে জ্বালানি গ্যাস মজুদ আছে বলে কেন্দ্রের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতে কালো বাজারির অভিযোগ সামনে আসছে, দেশ জুড়ে অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার কড়া নজরদারিতে নেমেছে প্রশাসন।

মহারাষ্ট্র সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমানে মহারাষ্ট্রে কোনও জ্বালানি বা গ্যাসের সংকট নেই। উত্তরপ্রদেশ এবং মধ্যপ্রদেশ প্রশাসনের তরফ থেকেও রাজ্যের বিভিন্ন জায়গাতে কালোবাজারি রুখতে সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েক জায়গাতে অভিযান চালিয়ে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বহু সিলিন্ডার। মহারাষ্ট্রের খাদ্য, নাগরিক সরবরাহ ও ভোক্তা সুরক্ষা দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব অনিল দিগগিকার (Anil Diggikar) জেলার প্রশাসনগুলিকে গ্যাস সরবরাহের উপর কড়া নজর রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। বিভিন্ন স্তরে চালু করা হয়েছে কন্ট্রোল রুম যেখান থেকে সরাসরি রিয়েল-টাইম নজরদারি করা হবে বলে সূত্রের খবর। প্রশাসন নির্দেশ দিয়েছে, প্রত্যেক জেলা শাসকের নেতৃত্বে একটি করে কমিটি গঠন করতে হবে। যার মধ্যে থাকবেন জেলা সরবরাহ আধিকারিক, তেল সংস্থার প্রতিনিধিরা। ফড়নবিশ সরকারের তরফে জরুরী পরিষেবাগুলোতে জোর দেওয়া হয়েছে। হাসপাতাল, সরকারি হস্টেল, স্কুল-কলেজের মেস, মিড-ডে মিল স্কুলে গ্যাস সরবরাহকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন: দেশজুড়ে এলপিজি সংকট, কেন্দ্রের দিকে আঙ্গুল তুলে সংসদ ভবনের বাইরে ধর্নায় তৃণমূল

অন্যদিকে মধ্যপ্রদেশের ছাতারপুরে জেলায় প্রশাসন দু’দিনে মোট ৩৮টি গ্যাস সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করেছে। অভিযানের নেতৃত্ব দেন সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট জি এস প্যাটেল। নওগাঁও এলাকার বিলহারি গ্রামে (Bilhari Village) একটি ওয়াটার প্ল্যান্টে অভিযান চালিয়ে ১৩টি খালি সিলিন্ডার উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন বিশ্বনাথ কলোনিতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শ্যামলাল আহিরওয়ারের বাড়িতে হানা দিয়ে ২৫টি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়। জেলা খাদ্য আধিকারিক সীতারাম কোথারে জানিয়েছেন, পেট্রলিয়াম আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এছাড়াও, উত্তরপ্রদেশের হাপুরে একটি বাড়িতে হানা দিয়ে ৩২টি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে ১৮টি ভর্তি এবং ১৪টি খালি ছিল। জেলা সরবরাহ আধিকারিক সীমা বালিয়ান জানিয়েছেন, কালোবাজারি ঠেকাতে বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।

–

–

–

–

–

–


