সংসদে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট পাশ হওয়া কী সময়ের অপেক্ষা? শুক্রবার তৃণমূলের নেতৃত্বে বিরোধী সাংসদরা যে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব (impeachment notice) জমা দিয়েছে সেখানে এখনও পর্যন্ত ২০০ জন সাংসদ স্বাক্ষর করেছেন বলে সংসদ (Parliament) সূত্রে খবর। ফলে যে প্রস্তুতি নিয়ে গোটা দেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের (CEC, Gyanesh Kumar) বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্টের প্রস্তুতি নিয়েছিল বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস, তা যে সফল হওয়া সময়ের অপেক্ষা, শুক্রবার সংসদ সূত্রে তেমনটাই খবর।

শুক্রবার সংসদের দুই কক্ষ – লোকসভা ও রাজ্যসভায় ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব জমা দেয় তৃণমূল কংগ্রেস ও ইন্ডিয়া ব্লকের (I.N.D.I.A. block) দলগুলি। সংসদ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুই কক্ষ মিলিয়ে ১৯৩ জন সাংসদ স্বাক্ষর করেছিলেন এই প্রস্তাবে। শুক্রবার জমা দেওয়ার সময় সব মিলিয়ে মোট ২০০ জন বিরোধী সাংসদ ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে সই করেছেন, দাবি সূত্রের। তৃণমূলের লোকসভার ডেপুটি লিডার শতাব্দী রায় (Satabdi Roy) এবং রাজ্যসভায় দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন (Derek O’Brien) ইমপিচমেন্ট জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন, সংসদীয় সূত্রের দাবি।

প্রথমবার দেশের কোনও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট আনা হচ্ছে, যার নিশানায় জ্ঞানেশ কুমার। ইতিমধ্যেই বৃহস্পতিবার পর্যন্ত লোকসভার (Loksabha) ১৩০ জন এবং রাজ্যসভার (Rajyasabha) ৬৩ জন স্বাক্ষর করেছেন। শুক্রবার আরও ৭ জন স্বাক্ষরে এই সংখ্যাটা ২০০ ছুঁয়েছে। মূলত জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সাতটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে। এর মধ্যে দায়িত্ব পালনে পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ, নির্বাচনী জালিয়াতি, বিপুল সংখ্যক ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার মতো অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন : রাজ্যে এসেই বেলুড় গেলেন জ্ঞানেশ, তবুও ৯১ সন্ন্যাসী ‘বিচারাধীন’!

ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার ক্ষেত্রে বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস উদ্যোগ নিলেও গোটা দেশে যেভাবে বিরোধী রাজনৈতিক দল পরিচালিত রাজ্য বা একাধিক রাজ্যে বিরোধীদের বিপাকে ফেলার জন্য যেভাবে নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার, তাঁর ইমপিচমেন্টে সমর্থন জানিয়েছে প্রত্যেকটি বিরোধী দল। কংগ্রেস সাংসদ (Congress MP) এই প্রমোদ তেওয়ারি (Pramod Tiwary) দাবি করেন, জ্ঞানেশ কুমার যেভাবে কাজ করেছেন তা তাঁর চেয়ারের প্রতি অসম্মানের পরিচয় দিয়েছে, তাই ইন্ডিয়া ব্লক ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব এনেছে। তিনি সরাসরি বিজেপির প্রথম সারির সংগঠনের মতো কাজ করিয়েছেন কমিশনকে। অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব (Akhilesh Yadav) দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন আমাদের কথা শোনে না, তাই আমরা এই ইমপিচমেন্টের পক্ষে। সেই সঙ্গে একজন জেলাশাসক কীভাবে ঘুষ নিয়ে গোটা ভোটের ফলাফল বদলে দিয়েছেন, সেই বিষয়টিও আমরা তুলব।

যে প্রক্রিয়ায় দেশের প্রধান বিচারপতি বা কোনও হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির অপসারণ হয়, সেই প্রক্রিয়াই লাগু হয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধেও। হিসাব অনুযায়ী লোকসভার (Loksabha) ১০০ সাংসদ ও রাজ্যসভার (Rajyasabha) ৫০ সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয় ইপমিচমেন্ট পাশ হওয়ার জন্য। সেক্ষেত্রে যে ২০০ স্বাক্ষর সংগৃহিত হয়েছে, তাতে প্রয়োজনীয় অনুপাত রয়েছে কি না তা দেখার। নোটিশ দেওয়ার পরে ১৪ দিন দেওয়া হয় সেই প্রস্তাব পাশের আগে।

–

–

–

–


