পশ্চিম এশিয়ায় (West Asia) যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এবার পূর্ব এশিয়াতেও (East Asia) বাড়ছে উত্তেজনা। শনিবার (Saturday) একসঙ্গে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (Ballistic missile) উৎক্ষেপণ (launching) করল উত্তর কোরিয়া (North Korea)। দক্ষিণ কোরিয়ার (South Korea) সেনাবাহিনীর দাবি, রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের (Pyongyang) কাছাকাছি এলাকা থেকে প্রায় ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র পূর্ব দিকের সমুদ্রের দিকে ছোড়া হয়েছে। এই ঘটনার পরই সতর্কতা জারি করেছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান (Japan)। নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (Joint Chiefs of Staff) জানিয়েছে, উৎক্ষেপণ করা ক্ষেপণাস্ত্রগুলির সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য স্পষ্ট ভাবে জানা যায়নি। তবে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রগুলি জাপানের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের (Exclusive Economic Zone) বাইরে সমুদ্রে পড়েছে। ঘটনার পর থেকেই পরিস্থিতির উপর কড়া নজরদারি শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী। সম্ভাব্য আরও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের আশঙ্কায় সতর্কতা বাড়ানোর পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতিও জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনা ঘটেছে যখন দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক মহড়া চালাচ্ছে। প্রতিবছরের মতো এবারও দক্ষিণ কোরিয়ায় বড় আকারে এই মহড়া চলছে, যেখানে অংশ নিয়েছেন কয়েক হাজার সেনা এবং ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন আধুনিক যুদ্ধসরঞ্জাম। সিউল (Seoul) ও ওয়াশিংটনের (Washington) দাবি, এই মহড়া সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য সামরিক হুমকির মোকাবিলায় প্রস্তুতি যাচাই করতেই এই অনুশীলনের আয়োজন করা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (United States of America) এই ধরনের যৌথ সামরিক মহড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আপত্তি জানিয়ে আসছে উত্তর কোরিয়া। তাদের দাবি, এই মহড়াগুলি আসলে তাদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক আক্রমণের প্রস্তুতিরই অংশ। একই সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নত করার লক্ষ্যেও গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। এর জেরেই ২০০৬ সাল থেকে একাধিক আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছে দেশটি।

এদিকে বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধানমন্ত্রী কিম মিন-সিওক (Prime Minister Kim Min-seok)। বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা আলোচনার পথ আবার খোলার সম্ভাবনা নিয়ে কথা হয় বলে জানা গিয়েছে। তবে ঠিক তার পরেই উত্তর কোরিয়ার এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক মহলের অনেকেই।

আরও পড়ুন – ব্রিগেডে মোদির ১৮ হাজার কোটির ললিপপ: পাল্টা ২ লক্ষ কোটি দাবি তৃণমূলের

_

_

_



