প্রতিবন্ধী শংসাপত্র নিতে এসে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন রোগী, তাও আবার জেলার হাসপাতাল থেকে। রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে যখন বার বার সমালোচনায় সরব হন বিরোধীরা সেখানে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল বাঁকুড়ার (Bankura) বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতাল (Bishnupur district hospital)। জেলার এই হাসপাতালের ইতিহাসে প্রথমবার সফলভাবে সম্পন্ন হল একটি টোটাল হিপ জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি (Total Hip Replacement)।

বাঁকুড়ার জয়পুর থানার গেলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ৩৮ বছরের বুলটি দিগর, দীর্ঘদিন ধরে কোমরের গুরুতর সমস্যায় ভুগছিলেন। ছোটবেলায় একটি দুর্ঘটনার পর থেকেই তাঁর এই সমস্যা শুরু হয়। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করালেও স্থায়ী সমাধান পাননি। সম্প্রতি ব্যথা এতটাই বেড়ে যায় যে তাঁর হাঁটাচলা প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

বেসরকারি চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন, এই রোগের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ছিল জটিল অস্ত্রোপচার, যার খরচ ছিল প্রায় ৪-৫ লক্ষ টাকা। আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারটির পক্ষে এই বিপুল খরচ বহন করা সম্ভব ছিল না। ফলে কার্যত আশাহত হয়ে পড়েন তাঁরা।

অবশেষে প্রতিবন্ধী শংসাপত্র (হ্যান্ডিক্যাপ সার্টিফিকেট) আশায় তাঁরা বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে আসেন। সেখানেই অর্থোপেডিক সার্জন (Orthopedic surgeon) ডা. সমীর জানা রোগীর অবস্থা লক্ষ্য করেন এবং জানান, তিনি আসলে AVN (Avascular Necrosis of Femoral Head)-এ আক্রান্ত। চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালে থেকেই অপারেশনের পরামর্শ দেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, সিএমওএইচ (CMOH) এবং সুপারের সহযোগিতায় একটি বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়। স্বাস্থ্য দফতরের সহায়তায় আনা হয় প্রয়োজনীয় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। এরপর রবিবার প্রায় পাঁচ ঘণ্টার দীর্ঘ অপারেশনে সফলভাবে সম্পন্ন হয় এই জটিল অস্ত্রোপচার—সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

অপারেশনের পরের দিনই রোগী নিজে উঠে বসতে পারেন এবং ধীরে ধীরে হাঁটানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। চিকিৎসকদের মতে, অপারেশন সম্পূর্ণ সফল হয়েছে , বর্তমানে তিনি কড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং চিকিৎসকদের মতে খুব শীঘ্রই সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠবেন।

–

–

–

–
–
–

