নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করতেই রাজ্যে ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পরে একের পর এক আমলা, পুলিশ আধিকারিকদের বদলি করেই চলেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের অবসার্ভার হিসেবে অন্য রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। রাজ্যের শীর্ষ আমলাদের বদলির সিদ্ধান্তে কালবৈশাখীর মরশুমে দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যাহত হতে পারে বলে অভিযোগ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিও লিখেছেন। এবার কমিশনের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) মামলা দায়ের করা হল। শুক্রবার কমিশনের এই পদক্ষেপের উপরে স্থগিতাদেশ চেয়ে মামলা দায়ের করেছেন আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চ মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে এবং আগামী সোমবার এই মামলার শুনানি বলে জানা গিয়েছে।

জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) দায়িত্ব যে কোনও রাজ্যে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সংঘটিত করা কিন্তু প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের অন্য রাজ্যে পাঠানোর এক্তিয়ার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নেই। এর ফলে প্রশাসনিক কাজ ব্যাহত হয়, এমনটাই এদিনের মামলার আবেদনে জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, আশ্চর্যজনকভাবে গত ৭২ ঘণ্টায় রাজ্যের ৪৩ জন পুলিশ আধিকারিক –আমলাকে বদলির নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার মুরলীধর শর্মা, সৈয়দ ওয়াকার রাজা, প্রবীণ কুমার ত্রিপাঠি সহ ১৫ জন পুলিশকর্তাকে তামিলনাড়ুর ভোটে পুলিশ অবজ়ার্ভার করে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু একবারের জন্যও ভেবে দেখা হয়নি হঠাৎ গুরুত্বপূর্ণ পুলিশ কমিশনারেটের সিপিকে অন্য রাজ্যে পাঠিয়ে দিলে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্ব কীভাবে সামাল দেওয়া যাবে। কিছুক্ষনের মধ্যেই আবার সেই নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়। এর ফলে রাজ্যজুড়েই নিঃসন্দেহে এক বিভ্রান্তিকর আবহ সৃষ্টি হয়েছে। কমিশনের এই পদক্ষেপগুলিটিতে প্রশাসনিক স্তর ছাড়াও জননিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা হচ্ছে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট দফতর।

–

–

–

–

–

–

–

–
