দেশের সরকার সাধারণ দিন আনা দিন খাওয়া মানুষের পাশে থাকবে। কৃষকের জ্বালানির অভাব হতে দেবে না। এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েও হরমুজ প্রণালীতে যে দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চলতে থাকবে, সেই আশঙ্কা লোকসভায় (Loksabha) পেশ করলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। কিন্তু কীভাবে ভারত এই পরিস্থিতির সঙ্গে পাল্লা দেবে, তা নিয়ে সঠিক দিশা দেখাতে পারলেন না প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister of India)। এদিন মোদির মুখে সমস্যা থাকলেও সমাধান নিয়ে ছিল না সঠিক দিশা। তবে গাল্ফভুক্ত দেশগুলিতে (Gulf nations) ভারতীয়রা যে নিরাপদে রয়েছেন, তা নিয়ে তথ্য পেশ মোদির।

নতুন করে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের (crude oil) দাম বাড়া শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এশিয়ার একাধিক দেশ পেট্রোল ডিজেলের নাম বাড়িয়েছে। তবে এখনই ভারতে পেট্রোল ডিজেলের দাম বাড়ছে কিনা, তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু লোকসভায় জানাননি নরেন্দ্র মোদি। তবে এবার লোকসভায় তিনি মেনে নিলেন যে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ ভারতের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। যে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে জ্বালানির পরিবহন বাধা পেয়েছে সেখান থেকেই ভারতের ৬০ শতাংশ এলপিজি (LPG) এবং প্রাকৃতিক গ্যাস আসে বলে সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী।

এই মুহূর্তে প্রথমে গাল্ফ দেশগুলিতে আটকে পড়া ভারতীয়দের নিরাপত্তার বিষয়টির উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ওই দেশগুলিতে ৩.৭৫ লক্ষ ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। এছাড়াও আটকে পড়া ১ হাজার ভারতীয়কে ইরান থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যার মধ্যে ৭০০ জন ডাক্তারি পড়ুয়া ছিলেন, বলে সংসদে তথ্য পেশ করেন নরেন্দ্র মোদি। সেই সঙ্গে গাল্ফ দেশগুলিতে আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য প্রতিনিয়ত দেশগুলির শেষ নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে ভারত, জানান মোদি।

তবে যে সমস্যা ভারতে তৈরি আসতে চলেছে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জন্য তার উল্লেখ করে নরেন্দ্র মোদি জানান, আসন্ন গ্রীষ্মের সময়ে ভারতে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়বে। সেই সঙ্গে কৃষি ক্ষেত্রে জলের যোগানের সমস্যাও তৈরি হবে। এই দুই ক্ষেত্রেই যে জ্বালানি তেলের ব্যবহার হয় তা কয়লার সাহায্যে প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনার কথা লোকসভায় (Loksabha) জানান মোদি। তিনি জানান, ভারতে এক বছরে এক বিলিয়ন টন রেকর্ড কয়লা উৎপাদন হয়েছে। এই নিয়ে এটা দ্বিতীয় বছর। দেশের সব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে প্রচুর পরিমাণ কয়লা মজুত রয়েছে।

আরও পড়ুন : হরমুজে সমস্যা লম্বা সময়ের: শুধুই প্রস্তুত থাকার বার্তা, লোকসভায় মিলল না মোদির সমাধান

সোমবার লোকসভায় পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে জ্বালানি সংকট বিষয়ের উপর বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদি স্বীকার করে নেন, পশ্চিম এশিয়ার এই সংকট (West Asia crisis) দীর্ঘ সময় চলবে। তার জন্য ভারতকে প্রস্তুত থাকতে হবে। তার জন্য তাঁর একমাত্র দাওয়াই পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক ভালো রাখা। যদিও সোমবারের পর হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) আমেরিকা নতুন করে হামলা শুরু করলে সেই প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা। সে ক্ষেত্রে ভারতের জ্বালানির সরবরাহ কিভাবে হবে তার উত্তর নেই মোদির বক্তব্যে। তিনি শুধু জানান, আগে ভারত ২৭টি দেশ থেকে জ্বালানি আনত। এখন সেই সংখ্যাটা ৪১-এ পৌঁছেছে। ফলে সেই সব দেশ থেকে জ্বালানি আসবে।

দেশের সংকটের কথা স্বীকার করে নিয়ে নরেন্দ্র মোদি গোটা দেশকে এবং সংসদের সব সদস্যকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। একদিকে সংকট নিয়ে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া নিয়ে সতর্ক করেন। সেই সঙ্গে কালোবাজারি নিয়ে সতর্ক করে দেন। এই পদক্ষেপে সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান মোদি লোকসভায় (Loksabha)।

–

–

–
