পেটের দায়ে ভিক্ষায় বেরিয়েছিলেন স্বামী-স্ত্রী। ফিরে এসে দেখলেন, ঘরের মধ্যেই নিথর হয়ে পড়ে রয়েছে তাঁদের এক মাসের কন্যাসন্তান। মর্মান্তিক এই ঘটনা ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বরেলির কেল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায়।

গত শুক্রবার বেলা ১১টা নাগাদ মহম্মদ শাদাব ও তাঁর স্ত্রী হিনা চার বছর, দেড় বছর এবং এক মাসের তিন সন্তানকে বাড়িতে রেখে ভিক্ষা করতে বের হন। দীর্ঘ সময় পর সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ বাড়ি ফিরে তাঁরা দেখতে পান, ছোট্ট শিশুটি আর বেঁচে নেই। তড়িঘড়ি করে দাফনের প্রস্তুতি শুরু হলেও খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। রাতেই শিশুটির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।

প্রতিবেশীদের দাবি, দীর্ঘক্ষণ না খেতে পেয়ে অনাহারেই মৃত্যু হয়েছে শিশুটির। যদিও ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে সংক্রমণ ও শারীরিক অসুস্থতার ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

জানা গিয়েছে, মহম্মদ শাদাব এক সময় ঘুড়ির সুতো বা মাঞ্জা তৈরির কাজ করতেন। কিন্তু করোনা পরবর্তী সময়ে কাজ হারিয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি। স্থায়ী উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়ে পরিবারটি। শেষ পর্যন্ত তিন সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতেই নামতে বাধ্য হন তিনি।

প্রতিবেশীদের কথায়, এই পরিবারে অভাবজনিত এমন ঘটনা এই প্রথম নয়। এর আগেও একই রকম দারিদ্র্যের মধ্যে তাঁদের ছয় মাসের এক সন্তানের মৃত্যু হয়েছিল বলে দাবি। এ বার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

ঘটনার পর বাড়িভাড়া বকেয়া থাকায় ঘর ছেড়ে সপরিবারে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন শাদাব। বর্তমানে তাঁদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয়দের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, চরম দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার এক নির্মম প্রতিচ্ছবি।

আরও পড়ুন – আবহাওয়ার তারতম্যে শহরে কাশি-জ্বরের প্রকোপ, কী জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা

_

_

_
_
