সোমবার প্রকাশিত সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় বিস্তারিত কী আছে বুধবারও তার জবাব দিতে পারল না নির্বাচন কমিশন। যাচাই প্রক্রিয়ার পর ৬০ লক্ষ অ্যাডজুডিকেশনের (adjudication) অধীনে থাকা ভোটারদের মধ্যে কত নাম ডিলিট অর্থাৎ বাদ পড়েছে, তা জানেন না বলে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন সিইও মনোজ আগরওয়াল (CEO Manoj Agarwal)। বুধবার ৩২ লক্ষের যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে জানালেও দেখা গেল মাত্র ১০ লক্ষ ভোটারের তথ্য আপলোড (upload) হয়েছে। যা নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) অস্বচ্ছতার আরও এক নতুন উদাহরণ। আবার এই ৩২ লক্ষের ৪০ শতাংশ ডিলিটেড (deleted) বলে জানা গেল কমিশন সূত্রে।

অনেক দেরি করে শেষ পর্যন্ত সোমবার মধ্যরাতে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা (supplementary voter list) প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষণা করা হয়েছিল তাতে প্রায় ২৯ লক্ষের নাম থাকবে। বুধবার সেই নির্বাচন কমিশন তথ্য পেশ করল ৩২ লক্ষের যাচাই শেষ হয়েছে বলে। আচমকা দুই দিনে প্রায় তিন লক্ষ বেড়ে যাওয়ার ব্যাখ্যা যদিও কমিশন দেয়নি। তবে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) জানিয়েছিল, অ্যাডজুডিকেশন মামলাগুলির যেমন নিষ্পত্তি হবে তেমন নতুন তালিকা প্রকাশ করতে পারে কমিশন। আপাতত এতদিনে সেই নির্দেশ মানতে চলেছে কমিশন, এমনটাই ইঙ্গিত মিলেছে।

মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানিয়েছিলেন কত নাম বাদ পড়েছে বা ডিলিটেড, তা তিনি জানেন না। তবে বুধবার নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে ৩২ লক্ষ নিষ্পত্তি হওয়া ভোটেরদের মধ্যে ৪০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ১২ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। বলাই বাহুল্য, বুধবার পর্যন্ত সেরকম কোনও ডিলিটেড তালিকা প্রকাশ করতে পারেনি কমিশন।

আরও পড়ুন : মিডিয়াকেও ভয়! MCC-র নিয়মের সঙ্গে সংবাদ মাধ্যমের উপরও কমিশনের নিষেধাজ্ঞা

নির্বাচন কমিশন যে কোনওভাবেই এসআইআর প্রক্রিয়ার নিষ্পত্তি স্বচ্ছভাবে করতে চায় না তা বুধবার আরও একবার প্রমাণিত হল। কমিশনের (Election Commission) হিসাবে নিষ্পত্তি হয়েছে ৩২ লক্ষ ভোটারের মামলা। অথচ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে এখনও তা আপলোড (upload) হয়নি। সূত্রের খবর, কমিশনের সাইটে মাত্র ১০ লক্ষের তথ্য আপলোড হয়েছে। ফলে আদতে কারা বাদ পড়লেন এবং কারা ভোটার তালিকার অন্তর্ভুক্ত হলেন তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশায় বঙ্গবাসী। কমিশন জানিয়েছে পরবর্তী সাপ্লিমেন্টারি তালিকা শুক্রবার প্রকাশিত হবে। তবে তার আগে নিষ্পত্তি হওয়া ভোটারদের পুরো তথ্য আপলোড হবে কি না, তা এখনও জানাতে পারছে না মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর।

–

–

–

–

–
