পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল সাধারণ মানুষের হেঁশেলে ও পকেটে। রান্নার গ্যাসের দাম আগেই ঊর্ধ্বমুখী ছিল, এবার তার সঙ্গে যুক্ত হল পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি। এতদিন প্রিমিয়াম জ্বালানির দাম বাড়লেও সাধারণ পেট্রোল-ডিজেলের দর নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেই স্বস্তি আর স্থায়ী হলো না। বেসরকারি তেল সংস্থা ‘নায়রা এনার্জি’ এক ধাক্কায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে বাজারের অস্থিরতার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়ে দিল।

সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে তাদের প্রায় ৬৫০০টি পাম্পে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৫ টাকা এবং ডিজেলের দাম লিটার প্রতি ৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধির কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। নায়রা এনার্জি বেসরকারি সংস্থা হওয়ায় তাদের দাম নির্ধারণে স্বাধীনতা থাকলেও, এখন সব নজর সরকারি তেল সংস্থাগুলির দিকে। ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়ামের মতো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিও যদি এই পথ অনুসরণ করে, তবে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছাবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আমেরিকা-ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। এতদিন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি আমজনতার কথা ভেবে এবং সরকারি চাপে দাম স্থিতিশীল রেখেছিল। তবে ক্রমাগত বাড়তে থাকা অপরিশোধিত তেলের দাম তাদের মুনাফায় বড়সড় ধাক্কা দিচ্ছে। ফলে কতদিন তারা এই চাপ সামলে দাম অপরিবর্তিত রাখতে পারবে, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জ্বালানির এই দাম বৃদ্ধির প্রভাব কেবল গাড়ির মালিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ডিজেলের দাম বাড়ার ফলে লজিস্টিকস এবং পণ্য পরিবহণের খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে সবজি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রতিটি জিনিসের ওপর। এক কথায়, জ্বালানির আঁচ মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ অগ্নিমূল্য হয়ে ওঠার আশঙ্কা প্রবল।


_

_

_

_

_

_
_
