রাজ্যের অ্যাডজুডিকেশনে থাকা ভোটারদের মধ্যে যাদের রাজনৈতিক দলগুলি প্রার্থী করতে চলেছে, তাঁদের জন্য কলকাতা হাইকোর্টে জরুরী ভিত্তিতে আবেদন করতে পারে রাজনৈতিক দলগুলি। এমন নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই নির্দেশকে কাজে লাগিয়ে এবার অ্যাডজুডিকেশনে (adjudication) থাকা ১১ প্রার্থীর (TMC candidate) জন্য কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতির (Chief Justice) কাছে এই মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তির আবেদন জানালো রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই সঙ্গে যেভাবে অ্যাডজুডিকেশনের নিষ্পত্তি হওয়ার তালিকা প্রকাশ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission), তা নিয়েও পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়।

এখনও পর্যন্ত তৃণমূল যে প্রার্থী তালিকা তৈরি করেছে তার মধ্যে ১১ জন প্রার্থী এখনও কমিশনের অ্যাডজুডিকেশনের তালিকায়। যার মধ্যে রয়েছেন রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী। সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) সর্বশেষ নির্দেশিকা অনুযায়ী যেভাবে এই বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে প্রার্থীদের ক্ষেত্রে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে দ্রুত আবেদন করা যায়, তেমন আবেদন জানানো হল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে। রাজ্যের প্রথম দফা নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফার শেষ দিন ৯ এপ্রিল। তার আগে যাতে এই প্রার্থীদের (TMC candidate) মামলাগুলি নিষ্পত্তি হয়, তার আবেদন জানানো হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের অক্লান্ত পরিশ্রম। তার পরেও নির্বাচন কমিশন অ্যাডজুডিকেশনের নিষ্পত্তি হওয়া ভোটারদের তথ্য প্রকাশে ব্যর্থ। সুপ্রিম কোর্ট যেখানে প্রতিদিনের ভিত্তিতে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছিল, সেখানে সেই নির্দেশ নিয়েও ঢিলেঢালা কমিশন। যার ফলে রাজ্যের ৬০ লক্ষ অ্যাডজুডিকেশনের ভোটারদের মধ্যে প্রায় ৩০ লক্ষের নিষ্পত্তি হয়ে গেলেও কমিশনের সাইটে দেখতে পাচ্ছেন মাত্র ৭ লক্ষ ভোটার।

আরও পড়ুন : কমিশনের রাজ্যের আধিকারিক বদলি মামলা: রায়দান স্থগিত রাখল হাই কোর্ট

হাই কোর্টের প্রধানবিচারপতিকে লেখা চিঠিতে তৃণমূলের তরফে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের দ্বিচারিতার কথাও। যেখানে কমিশন জানাচ্ছেন অন্তত ২৭ লক্ষ অ্যাডজুডিকেশনে থাকা ভোটারদের মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে, সেখানে মাত্র সাত লক্ষ ভোটার তাঁদের অবস্থান কমিশনের ওয়েবসাইটে জানতে পারছেন। সেক্ষেত্রে যেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেন যাতে সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় থাকা সব নিষ্পত্তি হওয়া মামলার প্রকাশ করা হয়। সেই সঙ্গে অনুরোধ জানানো হয় যেন প্রতিদিন সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশের ব্যবস্থা করে নির্বাচন কমিশন।

–

–

–

–

–
