স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এ বার বেনজির পদক্ষেপ করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটকে ঘিরে একগুচ্ছ কড়া ব্যবস্থার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বুথের ভিতরে তো বটেই, এ বার বুথের বাইরেও কড়া নজরদারি চালানো হবে। এমনকি বুথের আশপাশে ভোটারদের ভয় দেখানো বা বাধা দেওয়ার মতো ঘটনাকেও ‘বুথ ক্যাপচারিং’ হিসেবে গণ্য করবে কমিশন।

এ বারের নির্বাচনে নজরদারির কায়দায় বড়সড় রদবদল আনা হয়েছে। আগে বুথের ভিতরে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও, এবার বুথের ভিতর ও বাইরে—উভয় দিকেই ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ৩৬০ ডিগ্রি ভিউ নিশ্চিত করতে একাধিক ক্যামেরাও থাকতে পারে। লক্ষ্য একটাই, রাজ্যের ১০০ শতাংশ বুথকেই যেন ওয়েবকাস্টিংয়ের আওতায় আনা যায়। গোটা প্রক্রিয়ার জন্য প্রায় ২ লক্ষ সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে বলে কমিশনের দাবি।

নির্বাচন পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়েছে ত্রিস্তরীয় নজরদারি ব্যবস্থা। স্থানীয় স্তরে রিটার্নিং অফিসারের কন্ট্রোল রুম ছাড়াও জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে থাকছে পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। আর মূল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রটি থাকবে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে। সেখানে ৬৬০টি টিভি স্ক্রিন বসানো হয়েছে, যার মাধ্যমে একই সঙ্গে রাজ্যের বহু বুথের লাইভ ছবি দেখা সম্ভব হবে। এই নজরদারির দায়িত্বে থাকছেন ২৩৫২ জন মাইক্রো অবজার্ভার এবং ৯৬৫ জন সহকারী অবজার্ভার। এ ছাড়াও ফ্লাইং স্কোয়াড ও কুইক রেসপন্স টিমের গাড়িতে ক্যামেরা ও জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ইভিএম এবং ভিভিপ্যাট মেশিনের নিরাপত্তা নিয়েও কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না কমিশন। ইতিমধ্যেই প্রায় ৩ লক্ষ ইভিএম ইউনিটের প্রাথমিক পরীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে। প্রতিটি ইভিএম বহনকারী গাড়িতে জিপিএস ট্র্যাকিং থাকবে। এমনকি গণনাকেন্দ্রের সরাসরি ছবিও কন্ট্রোল রুমে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রযুক্তির এই নিশ্ছিদ্র বেষ্টনীতে ভোট প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও নির্ভয় করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন।

আরও পড়ুন- দুই কিস্তি নয়, ৩১ মার্চের মধ্যেই বকেয়া ডিএ একসঙ্গেই মেটানোর নির্দেশিকা রাজ্যের

_

_

_

_

_
_
