জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া টলিপাড়ায়। তবে শোকের আবহেও তালসারির সমুদ্রসৈকতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে দানা বাঁধছে রহস্য। তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে শুটিং ইউনিটের গাফিলতির একের পর এক অভিযোগ। পুলিশের দাবি, সমুদ্রসৈকতের মতো সংবেদনশীল এলাকায় শুটিং চললেও স্থানীয় প্রশাসন বা থানায় কোনও আগাম অনুমতি নেওয়া হয়নি।

তালসারি মেরিন থানার আইআইসি শ্রাবণ কুমার মহারানা জানিয়েছেন, বড় ইউনিট নিয়ে শুটিং চললেও বিষয়টি সম্পর্কে তাঁদের অন্ধকারে রাখা হয়েছিল। তাঁর মতে, সমুদ্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় শুটিং করতে গেলে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা এবং লাইফ গার্ড রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ঘটনাস্থলে জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় তেমন কোনও আগাম প্রস্তুতি ছিল না। প্রশাসনিক অনুমতি ছাড়া এবং পর্যাপ্ত রক্ষাকবচ বিহীন এই শুটিং ঘিরেই এখন জোরালো হচ্ছে গাফিলতির অভিযোগ।

অন্যদিকে, ধারাবাহিকের প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায় জানিয়েছেন, চিত্রনাট্যে গভীর জলে নামার কোনও দৃশ্যই ছিল না। ফলে অভিনেতা কেন বা কীভাবে জলের তোড়ে ভেসে গেলেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত রাহুলের দীর্ঘদিনের গাড়িচালকের বয়ানে উঠে এসেছে অন্য ছবি। তিনি জানিয়েছেন, শুটিং চলাকালীন নায়িকার হাত ধরে সমুদ্রের জলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন রাহুল। সেই সময় হঠাৎই এক প্রবল জলোচ্ছ্বাসে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তিনি। ইউনিট সদস্যরা দ্রুত উদ্ধারকার্যে ঝাঁপিয়ে পড়ে রাহুল ও নায়িকাকে ডাঙায় তুললেও, ততক্ষণে অভিনেতার ফুসফুসে জল ঢুকে গিয়েছিল। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

শুটিং ইউনিটের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নাকি নিছক দুর্ঘটনা— তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অনুমতিহীন শুটিংয়ের নেপথ্যে কার নির্দেশে কাজ চলছিল, তা জানতে খুব শীঘ্রই ইউনিটের অন্যান্য সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। তদন্তকারীদের মতে, যথাযথ সুরক্ষা বিধি মানা হলে হয়তো অকালে ঝরে যেত না একটি প্রাণ।


_

_

_

_

_
_
