পুরুলিয়ার লোকসংস্কৃতি এবং কৃষি— দুইয়ের মেলবন্ধনে উন্নয়নের নয়া দিশা দেখালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বাঘমুন্ডি বিধানসভা কেন্দ্রের দলীয় প্রার্থী সুশান্ত মাহাতোর সমর্থনে ঝালদার জনসভা থেকে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করেন তিনি। বাঘমুন্ডির বিখ্যাত ছৌ মুখোশ গ্রাম চরিদাকে কেন্দ্র করে একটি আধুনিক ‘মুখোশ কমপ্লেক্স’ এবং আড়ষা এলাকায় কৃষকদের জন্য একটি বড় হিমঘর তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন অভিষেক।

বাঘমুন্ডির চরিদা গ্রাম বিশ্বজুড়ে ছৌ মুখোশের জন্য পরিচিত। কয়েকশো পরিবার বংশপরম্পরায় এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, “চরিদার শিল্পীরা আমাদের গর্ব। তাঁদের হাতের কাজ বিশ্ববন্দিত। কিন্তু বিপণন ও পরিকাঠামোর অভাবে অনেক সময় শিল্পীরা নায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হন। সেই কারণেই আমরা ঠিক করেছি, চরিদাতে একটি আধুনিক মুখোশ কমপ্লেক্স গড়ে তোলা হবে।” এই কমপ্লেক্সটি নির্মিত হলে শিল্পীরা একই ছাতার তলায় কাজ করার পাশাপাশি তাঁদের সামগ্রী সরাসরি প্রদর্শনী ও বিক্রির সুযোগ পাবেন, যা তাঁদের অর্থনৈতিক বুনিয়াদকে আরও শক্ত করবে। শিল্পের পাশাপাশি জেলার কৃষি ব্যবস্থার দিকেও নজর দিয়েছে শাসকদল। আড়ষা ও তৎসংলগ্ন এলাকার কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি সরকারি হিমঘরের। সেই দাবিকে মান্যতা দিয়ে অভিষেক এদিন ঘোষণা করেন, আড়ষা এলাকায় একটি কোল্ড স্টোরেজ বা হিমঘর নির্মাণ করা হবে। এর ফলে সবজি চাষিরা তাঁদের উৎপাদিত ফসল সঠিক উপায়ে সংরক্ষণ করতে পারবেন এবং ফড়েদের দাপট কমবে।

এদিননের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “রাজ্যে চতুর্থবার তৃণমূল সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে এই প্রকল্পগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। আমরা যা বলি, তা করে দেখাই।” লোকশিল্পীদের মর্যাদা এবং কৃষকদের আর্থিক উন্নয়নই যে আগামী দিনে জেলার উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হতে চলেছে, তাঁর এই মন্তব্যে তা স্পষ্ট।

আরও পড়ুন- রাহুলের মৃত্যুতে দানা বাঁধছে রহস্য! পুলিশের অনুমতি ছাড়াই চলছিল শুটিং?

_

_

_

_

_

_
_
