এসআইআরের মাধ্যমে বিশেষ সম্প্রদায়ের নাম বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে মালদহের কালিয়াচকে বিক্ষোভ-অবরোধের জেরে ৭ জুডিশিয়াল অফিসারকে রাত পর্যন্ত আটকে রাখার ঘটনায় এবার কড়া পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court)। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত (CJI Surya Kant) বলেন, বিচারকদের জন্য নির্ভয় পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মালদহের (Maldah) ঘটনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিচারকদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্যই এটি করা হয়েছে। প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আদালত।

এদিন মালদহে বিক্ষোভের প্রসঙ্গ উঠতেই প্রধান বিচারপতি বলেন এই ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর।বুধবার রাতে যে ৭ জন বিচারককে ঘেরাও করে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখা হয়েছিল তাঁদের মধ্যে ছিলেন তিনজন মহিলা ছিলেন। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের (Sujoy Paul) পাঠানো চিঠির ভিত্তিতে আদালত জানায়, পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছিল যে গভীর রাতে হোম সেক্রেটারি ও ডিজিপি প্রধান বিচারপতির বাসভবনে পৌঁছন। রাত ১২টার পর গিয়ে ওই বিচারকদের মুক্ত করা সম্ভব হয়। এখানেই শেষ নয় ওই বিচারকদের উদ্ধার করে বাড়ি ফেরানোর সময়ে গাড়িতে পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। শীর্ষ আদালত (Supreme Court) এদিন পর্যবেক্ষণে বলে, মালদহের এই ঘটনা শুধু বিচারকদের ভয় দেখানোর চেষ্টা নয়, বরং তা আদালতের ক্ষমতার উপর সরাসরি আঘাত।বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “যাঁদের উপর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া উচিত ছিল।”প্রধান বিচারপতি বলেন এই ধরনের ঘটনা আদালত অবমাননার পর্যায়ে পড়ে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আচরণ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।এরপর বিচারকদের নিরাপত্তায় কমিশনকে (ECI) দ্রুত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কমিশন সিবিআই (CBI) বা এনআইএ-র (NIA) মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে এই ঘটনার তদন্তের ভার দিক, নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি । এই তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট সরাসরি শীর্ষ আদালতে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি মুখ্যসচিব, ডিজিপি, এসপি ও ডিএম-কে শোকজ করা হয়েছে। আগামী ৬ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানিতে তাঁদের হাজিরা দিতে হবে বলে জানিয়েছে আদালত। এদিন শুনানিতে রাজ্যে তরফে জানানো হয় যেভাবে নির্বাচন কমিশন (ECI) রাতারাতি প্রশাসনিক কর্তাদের রদবদল করেছে তাতে সমস্যা বাড়ছে। এরপর প্রধান বিচারপতি বলেন তাতেও এই ঘটনার দায় এড়াতে পারে না রাজ্য। বাংলায় সকলেই রাজনৈতিক ভাষায় কথা বলেন বলেও মন্তব্য করতে শোনা যায় বিচারপতিকে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সতর্ক করা সত্ত্বেও মালদহের ঘটনা সরাসরি বিচার বিভাগীয় ব্যবস্থার দিকে আক্রমণ বলে জানিয়েছেন সূর্যকান্ত।

বুধবার সুজাপুর -কালিয়াচকের ঘটনার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফের উত্তপ্ত মালদহ (Maldah)। এবার নারায়ণপুরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে সংখ্যালঘু নাম বাদের প্রতিবাদে মহিলাদের অবরোধ বিক্ষোভে ব্যাহত যান চলাচল। প্রচুর পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়ন করা হয়েছে।

–

–

–

–

–

–
–
