মালদহের (Maldah) সুজাপুর- কালিয়াচকে যেভাবে গভীর রাত পর্যন্ত বিচারকদের আটকে রাখা হয়েছিল তার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবার মুখ্যসচিব-ডিজিপি-এসপি ও ডিএম-কে শোকজের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বৃহস্পতিবার এসআইআর মামলার (SIR hearing) শুনানিতে শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিল রাজ্যে বিচারকদের কাজ করার জন্য নির্ভয় পরিবেশ তৈরি করতে হবে। তাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব সুনিশ্চিত করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। এ বিষয়ে কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিক নজির বিহীন ভাবে একগুচ্ছ পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত (CJI Surya Kant) । মধ্যরাতে ৭ বিচারক উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন আইন হাতে তুলে নেওয়া কোনওভাবে রেয়াত করা হবে না। মালদহের (Maldah) কালিয়াচকে যা ঘটেছে সেটা সরাসরি আদালতকে এবং বিচারব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করেছে। এরপরই রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজিপি-এসপি ডিএম-কে শোকজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ৬ এপ্রিল অর্থাৎ সোমবার পরবর্তী শুনানির দিন তাঁদের হয় সশরীরে কিংবা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হাজিরা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সি যে তদন্ত করবে তার প্রাথমিক রিপোর্ট সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে জমা দিতে হবে বলেও জানিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।

কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের (Sujoy Paul)পাঠানো চিঠির ভিত্তিতে সুপ্রিম আদালত জানায়, পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছিল যে গভীর রাতে হোম সেক্রেটারি ও ডিজিপি প্রধান বিচারপতির বাসভবনে পৌঁছন। বিচারকদের উদ্ধার করে নিয়ে আসার সময় গাড়িতে হামলা হয়।প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত আরও জানান, রাত ১১টা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি একটি ৫ বছরের শিশুকেও জল ও খাবার দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। কোনওভাবেই এই ধরনের ঘটনা রেয়াত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানান তিনি। সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে মালদহের ঘটনায় রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা প্রশ্নের মুখে।কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তার জবাব দিতে হবে রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিজিপি, জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে। সে কারণেই এনাদের শোকজ করা হয়। রাজ্যের তরফে যদিও স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে এখন নির্বাচন কমিশন রাজ্য পরিচালনা করছে কিন্তু শীর্ষ আদালতের কথায়, শুধুমাত্র এই যুক্তি দিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতা আড়াল করা যাবেনা। এটা সার্বিকভাবে বিচারপতিতে নিরাপত্তার উপর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

–

–

–

–

–

–

–
–
