“যদি আমাকে বিশ্বাস করেন, তাহলে দয়া করে প্ররোচনায় পা দেবেন না। আমার উপর বিশ্বাস থাকলে কোনও উত্তেজনায় পা দেবেন না। কোনও বিচারকের কাছে যাবেন না। কারও গায়ে হাত দেবেন না।“ মালদহের কালিয়াচকের ঘটনার ১২ ঘণ্টা পরে জেলার সুতির জনসভা থেকে দলীয় প্রার্থী প্রার্থী ইমানি বিশ্বাসের সমর্থনে প্রচার সভা থেকে বার্তা তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banarjee)। তাঁর অভিযোগ, কালিয়াচকের ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানাননি মুখ্যসচিব, ডিজি-সহ নবনিযুক্ত উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা।

মালদহে যে ঘটনা ঘটেছে, তার দায় নির্বাচন কমিশনেরই- এই অভিযোগ তুলে তৃণমূল সভানত্রী বলেন, “আমার হাতে এখন প্রশাসন নেই। আইনশৃঙ্খলা এখন সবটাই আমার হাত থেকে কেড়ে নির্বাচন কমিশনের হাতে গিয়েছে। ওরা হোম মিনিস্টার অমিত শাহের কথায় চলে। আমার কথায় চলে না। ভাবছে গায়ের জোরে জিতবে, ঘেচু জিতবে। অনুরোধ করব, কেউ অশান্তি করবেন না। গন্ডগোলে যাবেন না। শান্ত থাকুন। বিজেপি যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা। মানুষের রায়ে ওদের জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া ব্যবস্থা করতে হবে। কেউ প্ররোচনা দিলে তাতে পা দেবেন না। বিজেপির কথায় ধর্ম নিয়ে ভাগাভাগি করবেন না।“

“আমার হাতে আইন নেই। আমার কাছ থেকে সব কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এটা আমার দোষ নয়। এটা কমিশনের দোষ। তারা নিজেদের লোক বসিয়ে কাউকে নিরাপত্তা দিতে পারেনি।” আধিকারিকদের বিরুদ্ধে তোপ দেগে তিনি বলেন, “আমার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করে না। কোনও আধিকারিক আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন না। আপনাদের দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখা।”

মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, “আমার হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে রাজ্যের বদনাম করা হয়েছে। নতুন মুখ্যসচিব নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। আমায় জানানওনি।” আধিকারিক অপসারণের কমিশনের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দেখেছেন তো, যাঁদের নিযুক্ত করছেন, তাঁরা কেমন কাজ করছেন? যাঁরা আসলে কাজ করতেন, তাঁদের তামিলনাড়ু, কেরলে পাঠিয়ে দিয়েছেন। তাঁরা চিনতেন, জানতেন। সবাই সব কিছু পারে না।”

মমতার কথায়, “মালদহে গন্ডগোল হল কেন? সবাইকে তো সরিয়ে দিয়েছেন। আমি গন্ডগোল সমর্থন করি না। আমি শান্তির পক্ষে। যাঁরা গন্ডগোল করিয়েছেন, তাঁরা আমাদের দলের নন। যাঁরা করিয়েছেন আমি জানি, কোন রাজনৈতিক দল। এতে বিজেপিরও পরিকল্পনা আছে। ওরা ধর্মে ধর্মে বিভাজন করে। কাজ করেনি একটাও। ১৫ লক্ষ টাকা করে দেবে বলেছিল। দেয়নি। এসআইআর করে ইলেকশানের আগে সর্বনাশ করল। চার দিকে ইডি রেড করাচ্ছে। ইলেকশনের আগে কেন? সব দিক দিয়ে চক্রান্ত করছে। মোদি-শাহর দল গণতন্ত্রকে শেষ করে দেবে। বাইরের লোক এনে নির্বাচনের কাজ করাচ্ছে।“

SIR প্রসঙ্গ তুলে মমতা বলেন, “ভাবছেন শুধু আপনাদের এখানে নাম বাদ দিয়েছে? আমার ভবানীপুরেও ৪০ হাজার ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে। উকুন বাছার মতো। তার মধ্যে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা বেশি। সংখ্যালঘু এবং হিন্দু মা-বোনেদের নাম বাদ দিয়েছে। বিজেপি অনেক পরিকল্পনা করেছে। অমিত শাহ চক্রান্তের ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করছেন। অনুরোধ করব, কেউ দাঙ্গায় যাবেন না। এটা বিজেপির প্ল্যান। AI দিয়ে নিজেরা লিস্টে বানান ভুল করেছে আর মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে। ওরা মহিলা বিরোধী, তাই অনেক মহিলা ভোটারের নাম বাদ দিয়ে দিয়েছে। আমি সুপ্রিম কোর্ট গিয়ে লড়াই করেছি তাই ২২ লক্ষের নাম উঠেছে।“ নাম না করে ওয়েইসি এবং হুমায়ুনকেই নিশানা করেন মমতা। বলেন, “আপনাদের যখন নাম কাটা গেছে পাশে তৃণমূলের কর্মীরা ছিল, হায়দরাবাদ থেকে উড়ে আসা দালালরা ছিল না।“

–

–

–
–
–
