ভারতীয় শিল্পের ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত তৈরি করল রাজা রবি বর্মার (King Ravi Varma) অমূল্য সৃষ্টি ‘যশোদা ও কৃষ্ণ’ (Yashoda and Krishna)। ১৬৭ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় বিক্রি হয়ে ছবিটি নতুন রেকর্ড তৈরি করল। এই বিপুল অঙ্কে ছবিটি কিনেছেন সিরাম ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা (Founder of Serum Institute of India) সাইরাস এস পুনাওয়ালা (Cyrus S. Poonawalla)।

নিলামের আগে শিল্পবিশেষজ্ঞদের অনুমান ছিল, ছবিটির দাম ৮০ থেকে ১২০ কোটির মধ্যে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে সেই পূর্বাভাসকে ছাপিয়ে চূড়ান্ত দর পৌঁছে যায় ১৬৭ কোটি ২০ লক্ষ টাকায়। স্যাফ্রনআর্টের (SaffronArt) আয়োজিত এই নিলামেই ‘যশোদা ও কৃষ্ণ’ আধুনিক ভারতীয় শিল্পের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হওয়া ছবির তকমা অর্জন করে। আরও পড়ুন : এসআইআর তালিকায় ‘ডিলিটেড’, ক্যানিং-এ আতঙ্কে মৃত্যু বৃদ্ধার!

১৮৯০ সালে ইউরোপীয় তেলরঙে (Oil Painting) আঁকা এই ছবিতে রাজা রবি বর্মা তুলে ধরেছিলেন এক অত্যন্ত সাধারণ অথচ আবেগঘন মুহূর্ত। যশোদা গাভী দুয়ে চলেছেন, পাশে দাঁড়িয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে ছোট্ট কৃষ্ণ। এই সহজ দৃশ্যের মধ্যেই মাতৃত্বের কোমলতা ফুটিয়ে তুলেছিলেন শিল্পী। এই মানবিক উপস্থাপনাই ছবিটিকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে শিল্পমহলে। শিল্পকর্মটি কেনার পর সাইরাস পুনাওয়ালা জানান, এমন ঐতিহাসিক সৃষ্টি শুধু ব্যক্তিগত সংগ্রহে রাখার বিষয় নয়। তাঁর মতে, এটি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ, যা ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের জন্য প্রদর্শনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

রাজা রবি বর্মার শিল্পচর্চার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল তাঁর ইউরোপীয় শিল্পরীতির চর্চা করা। সেই সময় দেবদেবীদের ছবি ছিল প্রতীকী। তিনি প্রথম দেবদেবীদের মানবিক ও বাস্তব রূপে তুলে ধরেন। মুম্বইয়ে লিথোগ্রাফিক প্রেস (Lithographic press) স্থাপন করে তাঁর ছবির প্রিন্ট সাধারণ মানুষের ঘরে পৌঁছে যায়। ক্যালেন্ডার (Calender), মন্দির (Temple), দোকান (Shop) সবখানেই দেখা যায় তাঁর আঁকা দেবদেবীর ছবি।

১৯০৬ সালে তাঁর মৃত্যু হলেও রাজা রবি বর্মার শিল্পকর্মের মূল্য সময়ের সঙ্গে আরও বেড়েছে। তাঁর বহু সৃষ্টি ভারত সরকার ‘জাতীয় সম্পদ’ (National Wealth’) হিসেবে ঘোষণা করেছে, যার ফলে এইসব অমূল্য শিল্পকর্ম দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া যায় না। সময়ের ব্যবধান যত বাড়ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—রাজা রবি বর্মা শুধু একজন শিল্পী নন, ভারতীয় শিল্পের আধুনিকতার পথপ্রদর্শক। আর ‘যশোদা ও কৃষ্ণ’-র এই রেকর্ড বিক্রি সেই ঐতিহাসিক গুরুত্বকেই নতুন করে সামনে এনে দিল।

–

–

–

–
–
