প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা। মানুষের আতঙ্ক ও উদ্বেগের ছবিটা সেই এক। প্রতিদিন অন্তত একজন করে সহনাগরিকের প্রাণনাশের ঘটনা এসআইআর আতঙ্কে। নতুন করে সোমবার আরেক মৃত্যুর ঘটনা বীরভূমের নলহাটিতে (Nalhati)। মাত্র ৩২ বছরের যুবক ভোটার তালিকায় (voter list) নাম না থাকায় (name deleted) বিষ খেয়ে আত্মঘাতী হন, বলে দাবি পরিবারের। গোটা রাজ্যে ভোটার তালিকা, অ্যাডজুডিকেশন ও ট্রাইবুনাল (Appellate Tribunal) নিয়ে যেভাবে বিভ্রান্তি তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন, তার জেরেই এমন ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের।

বীরভূমের নলহাটি পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আনারুল শেখ। প্রাথমিক পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা অনুযায়ী তাঁর নাম অ্যাডজুডিকেশনের (adjudication) তালিকায় ছিল। সেই মতো বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের শুনানিতে তিনি যাবতীয় নথি জমা দিয়েছিলেন বলে দাবি পরিবারের। এরপরেও তাঁর নাম ডিলিট (name deleted) হয়ে যায় বলে অভিযোগ। সেই অবসাদেই তিনি বিষ খান বলে দাবি পরিবারের। তাঁর নলহাটির নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখান থেকে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজে রেফার করা হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন : একদিনে এসআইআরের বলি ২: রিষড়ার পরে কালনায় মৃত্যু বৃদ্ধের

এই ঘটনায় সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনকেই দাবি করেছেন তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানান, নলহাটিতে একটা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে। এসআইআর নাম ওঠেনি, মানসিক উদ্বেগে আত্মহত্যার ঘটনা। সারা বাংলা জুড়ে চরম নির্যাতন চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন বিজেপির দালালি করতে গিয়ে। বহু জায়গায় ভোটার জানেন না তাঁর স্ট্যাটাস কি। ভোটার তালিকার স্ক্রুটিনি করা যাচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্ট বলেছিলেন কাউকে বাদ দিতে হলে তাঁকে তার কারণ জানাতে হবে। কারণ জানানো তো দূরের কথা, তিনি বাদ কি বাদ নয়, তাই জানতে পারছেন না। কোথায় আপিল করবেন, অনলাইনের অর্ধেক ব্যবস্থা কাজ করছে না। অর্ধেক জায়গায় ট্রাইবুনালের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সেই সঙ্গে তিনি অনুরোধ করেন, তৃণমূল কংগ্রেস পাশে আছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পাশে আছে। কেউ এই ধরনের নিজেকে শেষ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন না। ভোট এসে গিয়েছে নিশ্চয়ই। আপনি বৈধ ভোটার হলে যেভাবে হোক আপনার নাম ভোটার তালিকায় তোলার লড়াই চলছে চলবে।

–

–

–

–

–
–
