বাংলায় ৩৫ বছর ক্ষমতায় ছিল সিপিএম (CPIM)। কিন্তু বর্তমান রাজনীতির ময়দানে কার্যত শূন্য তারা। এবার অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের (Rabindranath Tagore) ‘সহজপাঠ’কে হাতিয়ার করে ভোট প্রচারে নেমেছে সিপিএম (CPIM)। সিপিএমের পূর্ব বর্ধমান জেলা কমিটির ফেসবুক পেজে ‘ভোটের সহজপাঠ’ শিরোনামে একাধিক ছড়া ও ছবি পোস্ট করা হয়েছে। যেখানে সহজপাঠের নকল করে বেশ কিছু রাজনৈতিক ছড়া পোস্ট করা হয়েছে। নন্দলাল বসুর আঁকা ছবির অনুকরণে ছড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ছবিও আঁকা হয়েছে। যেখানে বিজেপি-তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছে বামেরা। তবে কবিগুরুর অমর সৃষ্টিকে বিকৃত করার সমালোচনা করেছে তৃণমূল (Trinamool Congress)।
বিষয়টি সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিরোধীদের অভিযোগ, বাঙালির আবেগ ও সংস্কৃতিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে সিপিএম। তাঁদের বক্তব্য, শিশুদের প্রথম পাঠ্যপুস্তক ‘সহজপাঠ’-কে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার করা সাংস্কৃতিকভাবে উচিত নয়। একে কবিগুরুর অসম্মান বলে দাবি করেছে বিরোধীরা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, একসময় বামেরাই রবীন্দ্রনাথকে ‘বুর্জোয়া কবি’ বলে সমালোচনা করত। আজ সেই দলই ভোটের রাজনীতিতে টিকে থাকতে তাঁর সৃষ্টি ও বাঙালির আবেগকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার পর ডিজিটাল প্রচারে নতুন কৌশল নিয়েছে বামেরা। আর সেই কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতেই এবার কবিগুরুর ‘সহজপাঠ’। আরও পড়ুন: সপ্তাহের শুরুতেই ব্যাহত মেট্রো পরিষেবা! এমজি রোড স্টেশনে ঝাঁপ

তৃণমূল সমর্থিত শিক্ষক সংগঠনের নেতা সঞ্জয় সাহা সমালোচনা করে জানিয়েছেন, “এটা অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। নতুন প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা যাবে। বাঙালির সংস্কৃতি ও আবেগকে অপমান করা হয়েছে।” কাটোয়ার তৃণমূল প্রার্থী রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ও বলেন, “সহজপাঠ শিশুদের প্রথম পাঠ্যপুস্তক হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেটিকে বিকৃত করা মানে কবিগুরুকেই অসম্মান করা।” এছাড়াও বিজেপি প্রার্থী কৃষ্ণ ঘোষ নিন্দা করে বলেন, “বামেরা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়েছে। তাই তারা এ ধরনের কৌশল নিচ্ছে।”

যদিও সিপিএমের দাবি, তাঁরা কোনওভাবেই ‘সহজপাঠ’ বিকৃত করেনি। দলের জেলা কমিটির সম্পাদক সৈয়দ হোসেনের দাবি, “আমরা কোনও কিছু বিকৃত করিনি। সহজপাঠের ভাষার ছড়ার অনুকরণে রাজনৈতিক প্রচার করেছি মাত্র। এটাকে বিকৃত বলা ঠিক নয়।”

–

–

–

–

–

–
