নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে যে পদ্ধতিতে কারচুপি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত কেন্দ্রের বিজেপি সরকার করে এসেছে, তার পর্দা প্রথম ফাঁস করেছিল বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। কোন পদ্ধতিতে সেই কারচুপি হয়েছিল তার ব্লুপ্রিন্টও এখন স্পষ্ট। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাই প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের কর্মীদের কমিশনের ‘চিপ’ (chip) কারসাজি নিয়ে সতর্ক করলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কীভাবে সেই কারসাজি ঢাকতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে (Central Force) কাজে লাগাচ্ছে বিজেপি, তার পর্দা ফাঁস করে আশ্বস্ত করলেন স্থানীয় মানুষকে।

ভোটযন্ত্রে গোলমাল করে বিজেপির পক্ষে ভোট পড়ার সম্ভাবনার কথা আগেই জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার প্রকাশ্যে সভা থেকে কীভাবে কমিশনের চিপ-ষড়যন্ত্র রুখতে হবে, তা স্পষ্ট করলেন তিনি। কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, ইভিএম মেশিন ভালো করে চেক করতে হবে। পুরোটা। যত রাজনৈতিক দল আছে সব বোতাম চেক করতে হবে। ইভিএম মেশিন ভিভিপ্যাট ছাড়া হবে না। কোনও মেশিন (EVM) খারাপ হয়ে গেলে সেই মেশিন সারিয়ে ভোট হবে না। কারণ চিপ (chip) ঢুকিয়ে দেবে। হ্যাকিং করবে। বলতে হবে নতুন মেশিন নিয়ে আসুন।

কমিশন যে শুধুমাত্র ভোটযন্ত্রেই (EVM) কারচুপি করবে না এমন সতর্কতাও অবলম্বণ করার কথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে। তৃণমূল কর্মীদের সতর্ক করে দলনেত্রীর বার্তা, কাউন্টিংয়ের লাস্ট অবধি থাকবেন। আর নির্বাচন ভোটিং মেশিন যতক্ষণ থাকবে কেউ বাইরের খাবার দিলে খাবেন না, যারা পাহারা দেবেন। ঘর থেকে জল নিয়ে যাবেন। চা নিয়ে যাবেন। দরকার হলে কর্মীদের খাবার দেবেন নিজেদের বাড়ি থেকে বানিয়ে।

আরও পড়ুন : কলকাতা নিয়ে পাকিস্তানের হুমকি: কেন মোদি বললেন না স্ট্রং অ্যাকশন হবে, জবাব দাবি মমতার

বিজেপির নির্দেশে কমিশন যেভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগাচ্ছে তাতে আদতে রাজ্যে সাধারণ ভোটার নয়, নির্বাচন কমিশনেরই রক্ষক হয়ে রাজ্যে আসছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, দাবি তৃণমূল নেত্রীর। তাই সেখানেও একদিকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর থেকে সতর্কতার বার্তা, অন্যদিকে আশ্বাস দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, আজ আমি শুনলাম ২০০ গাড়ি করে অযোধ্যা দিয়ে উত্তরপ্রদেশ থেকে সিআরপিএফ নিয়ে আসছে আপনাদের উপর হামলা করার জন্য। কেউ ভয় পাবেন না। এটা ২৫ দিনের ছলনা। ২৫ দিনের খেলা। সেই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, ভোট সিআরপিএফদের দিতে দেবেন না। বিহারে ওরা ছাপ্পা মেরেছে।

–

–

–

–
–
