বাঙালির সংস্কৃতিমনস্কতায় আঘাত হানতে এবার আসরে নামল গেরুয়া শিবির। বিশ্ববরেণ্য অস্কারজয়ী পরিচালক সত্যজিৎ রায় থেকে শুরু করে তাঁর কালজয়ী সৃষ্টি ‘পথের পাঁচালী’— বাদ গেল না কিছুই। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় আরএসএস-বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের তরফ থেকে একটি ছবি পোস্ট করা হয়েছে, যেখানে সত্যজিৎ রায়ের মুখে দাড়ি এবং মাথায় টুপি বসিয়ে তাঁকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে। শুধু তাই নয়, যে ছবি বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে মাইলফলক হিসেবে পরিচিত, সেই ‘পথের পাঁচালী’ ছবিটির নির্মাণ নিয়েও অত্যন্ত কুরুচিকর ও বিকৃত তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে।

এই ধরণের চরম অশিক্ষা এবং বাঙালি মননবিরোধী মানসিকতার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সর্বত্র তীব্র নিন্দা শুরু হয়েছে। ক্ষোভ উগরে দিয়েছে নেট মাধ্যম। সাধারণ নেটিজেনদের বক্তব্য, যারা বাংলার ইতিহাস-সংস্কৃতি সম্পর্কে নূন্যতম ধারণা রাখে না, তাদের পক্ষেই এই ধরণের জঘন্য কাজ করা সম্ভব। বিশ্ববরেণ্য একজন কিংবদন্তিকে এভাবে বিকৃত করার অপচেষ্টা আসলে বাঙালির অস্তিত্বে ও আত্মসম্মানে আঘাত হানারই নামান্তর।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ‘পথের পাঁচালী’ তৈরির নেপথ্যে নাকি কোনো অনৈতিক মদত ছিল এবং ছবিটিতে দারিদ্র্যকে গ্ল্যামারাইজ করা হয়েছে। এই ধরণের কুযুক্তি দেখে তাজ্জব চলচ্চিত্র মহলও। যে ছবিকে আজও বিশ্বের প্রথম সারির পরিচালকরা পাঠ্যপুস্তক বলে মনে করেন, তাকে কালিমালিপ্ত করার এই সক্রিয়তা সাধারণ মানুষ সহজভাবে মেনে নিচ্ছে না। নেট মাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সরব হয়ে মানুষ জানাচ্ছেন, বাংলার কৃষ্টি-কালচারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এই ধরণের কুরুচিকর পোস্টের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন সংস্কৃতি জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরাও। দিন দিন বাঙালির আত্মমর্যাদা খর্ব করার যে প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এই ঘটনা তারই এক নেতিবাচক প্রমাণ।

–

–

–

–

–

–
–
–
