এসআইআরের নামে বাংলাকে টার্গেট! আবার বাংলাকে ভাগ করার চক্রান্ত! বাংলায় বিভাজনের রাজনীতি করে নতুন রাজ্য তৈরির খেলা শুরু করেছে বিজেপি! শ্রীরামপুরের জনসভায় বিজেপির গোপন ষড়যন্ত্র ফাঁস করে তীব্র আক্রমণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, এসআইআর বা ‘সাসপেক্টেড ভোটার’ তালিকার নামে বাংলার প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম কেটে দেওয়ার এক গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। এই ঘটনাকে ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ বলে অভিহিত করে তাঁর হুঁশিয়ারি— ‘বিনাযুদ্ধে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়া হবে না।’

এদিন শ্রীরামপুরের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগ করেন যে, কেন্দ্রের নির্দেশে নির্বাচন কমিশনকে কাজে লাগিয়ে বাংলায় বিভাজনের রাজনীতি শুরু করেছে বিজেপি। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, চৈত্র সেলের মতো দেশটাকে বিক্রি করে দেওয়ার পর এবার বাংলাকে টার্গেট করেছে নির্লজ্জ মোদি সরকার। তাঁর দাবি, কমিশনের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সুযোগ পর্যন্ত না পান।

তৃণমূল নেত্রীর কথায়, ‘এসআইআরের মাধ্যমে বাংলার ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম কেটেছে কমিশন-বিজেপির যৌথ আঁতাঁত। আমি মামলা করায় ১ কোটি ২০ লক্ষের মধ্যে ৩২ লক্ষের নাম তালিকায় উঠেছিল, কিন্তু এখনও বড় অংশের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মানবতা বা গণতন্ত্র— কেউই এই অপরাধ ক্ষমা করবে না।’ এই বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনে ফের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়ে মমতা বলেন, ‘যাদের নাম কেটেছ, তাদের কষ্টের কথা লেখা থাকছে। ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়াই হবে। শেষদিন পর্যন্ত মানুষের অধিকার ফেরাতে লড়ব। আবার কেস করব, আবার ফেস করব।’

নাম না করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও চড়া সুরে আক্রমণ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি অভিযোগ করেন, ‘মোটা ভাই’ বিচারকদের ফোন করে টাকা অফার করছেন এবং সন্ত্রাস চালিয়ে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছেন। দেশকে ‘কংসদের দল’ ধ্বংস করে দিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। সভায় উপস্থিত সাধারণ মানুষের উদ্দেশে তিনি আশ্বাস দেন, যে ৯১ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেস তাঁদের পাশে থাকবে এবং এই অনৈতিক কাজের শেষ দেখে ছাড়বে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের ইস্যুটিকে হাতিয়ার করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে যেমন কেন্দ্রীয় বঞ্চনার তত্ত্বকে উসকে দিলেন, তেমনই সাধারণ মানুষের ভাবাবেগকেও স্পর্শ করার চেষ্টা করলেন। বাংলার জমি আগলে রাখার এই লড়াই যে আগামী দিনে আরও তীব্র হবে, শ্রীরামপুরের সভা থেকে সেই বার্তাই স্প জুষ্ট করে দিলেন নেত্রী।

আরও পড়ুন – প্রয়াত আবু হাসেম খান চৌধুরি: মালদহ কংগ্রেসে যুগের অবসান

_

_

_
_
_
