Sunday, April 12, 2026

ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠক: মৃত স্কুল পড়ুয়াদের নিয়েই ‘যোগ’ ইরানের!

Date:

Share post:

হরমুজ প্রণালী কি খুলবে? পশ্চিম এশিয়ায় প্রতিদিনের মিসাইল আর ড্রোনের আনাগোনা কি বন্ধ হবে? গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা কি নিতে পারবে আদৌ পাকিস্তান? ইসলামাবাদে (Islamabad) যখন যুযুধান দুই দেশ আমেরিকা ও ইরান আলোচনায় ব্যস্ত, তখন যুদ্ধের প্রভাব জারি ইজরায়েল (Israel) ও লেবাননে (Lebanon)। এই পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্বের কাছে যুদ্ধে ভয়াবহতা নিয়ে পাকিস্তানে (Pakistan) উপস্থিত ইরান (Iran)। যে মিনাব শহরে প্রাণ হারিয়েছিল প্রায় ২০০ স্কুল পড়ুয়া সেই মৃত্যুর স্মৃতিকেই শান্তি প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার করে পাকিস্তানে উপস্থিত ইরান।

ইসলামাবাদের বৈঠকে যোগ দিতে যে বিমানে সওয়ার হন ইরানের প্রতিনিধিরা তার নাম দেওয়া হয় মিনাব ১৬৮ (Minab 168)। মিনাব শহরে যে ১৬৮ স্কুল পড়ুয়া শিশুর মৃত্যু হয়েছিল, সেই শিশুদের স্মরণ করেই এই বিমান। সেই বিমানে পাকিস্তান পৌঁছান ইরান সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ ও বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। সেই সঙ্গে বিমানে এক একটি আসনে রাখা হয় মিনাবে (Minab) মৃত শিশুদের ছবি, তাদের ব্যবহার করা সেই অভিশপ্ত দিনের রক্তমাখা ব্যাগ ও স্কুলের জুতো। এই শিশুদের স্মৃতি পাকিস্তানের (Pakistan) শান্তি বৈঠকে (Peace talk) নিয়ে আসেন স্পিকার ঘালিবাফ।

শনিবার বিকাল থেকে ইসলামাবাদে শুরু হয় শান্তি বৈঠক। আমেরিকার তরফে বৈঠকে যোগ দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। সেই সঙ্গে দেশের পশ্চিম এশিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার যোগ দেন শনিবারের বৈঠকে। ১৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হওয়ার পরও ইজরায়েলের তরফে যুদ্ধ বন্ধ রাখার কোনও উদ্যোগই দেখা যায়নি। লেবাননের উপর ইজরায়েলের হামলার পরেও আমেরিকার তরফে দাবি করা হয়, লেবানন নিয়ে তাদের কোনও চুক্তি হয়নি। অন্যদিকে যে ১০ দফা শর্তে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তার মধ্যে অন্যতম ছিল গাল্ফ এলাকায় সংঘর্ষ বিরতি।

তা সত্ত্বেও ইজরায়েল ও আমেরিকা যৌথভাবে শর্ত লঙ্ঘন করায় বাঁকা পথ অনুসরণ করে ইরান। হরমুজ ফের বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়ে কর আদায় শুরু করেছে ইরান। এরপরই বেগতিক দেখে শান্তি আলোচনার জন্য পাকিস্তানের মুখাপেক্ষি হয় আমেরিকা। যার জেরে শনিবার ফের ইসলামাবাদে বৈঠকের আয়োজন করে পাকিস্তান।

আরও পড়ুন : সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন ইজরায়েলের, ফের হরমুজ বন্ধ করল ইরান 

এরই মধ্যে ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। লেখেন, বিশ্বের সবদিক থেকে খালি জাহাজ আমেরিকার দিকে আসছে। তার মধ্যে সবথেকে বড় আকারের জাহাজও রয়েছে। আমেরিকা থেকে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সংগ্রহ করবে তারা। সেই সঙ্গে উল্লেখ করেন বিশ্বের সর্ববৃহৎ দুটি তৈল ভাণ্ডারের থেকে বেশি পরিমাণ তেল আমাদের কাছে মজুত রয়েছে। কার্যত স্পষ্ট, হরমুজ প্রণালী শনিবারের বৈঠকের পরে নিঃশর্ত খোলার সম্ভাবনা না থাকলে বিশ্বের বাকি দেশগুলিকে আগে থেকেই প্রলুব্ধ করার পথে হাঁটছে আমেরিকা।

Related articles

‘মহাকাব্যিক স্ট্রিট ফুড’, উৎপল সিনহার কলম

" নিন, টপ করে খেয়ে নিন..." টপ করে মুখের মধ্যে চলে তো গেল ছোট্ট গোলাকার বলটি। কিন্তু তারপর...

বাংলার জন্য ফের মমতাই প্রয়োজন! তৃণমূল নেত্রীর হয়ে সওয়াল কংগ্রেস নেত্রী রেণুকার

রাজ্যে ভোটের আবহ যত বাড়ছে, ততই বিরোধী শিবিরের সমীকরণ ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন জল্পনা। এবার খোদ কংগ্রেসের শীর্ষ...

‘গণতন্ত্রের শত্রু’ বিজেপি! গেরুয়া শিবিরের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে গর্জে উঠল গণমঞ্চ

বিজেপির সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ এবং বাংলা ভাগের চক্রান্তের বিরুদ্ধে সরব হলো ‘দেশবাঁচাও গণমঞ্চ’। শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার বাগবাজারে আয়োজিত...

বকেয়া ডিএ মেটাতে তৎপর নবান্ন, ১৩ এপ্রিলের মধ্যে এসওপি জমার নির্দেশ অর্থ দফতরের

শিক্ষক ও সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করতে কড়া পদক্ষেপ করল...